ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে সচিবদের সঙ্গে জেলা জজদের অবস্থান

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৬, ১৬:২৩
 
দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার ক্রমে (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) সচিবদের সঙ্গে একই মর্যদায় অন্তর্ভুক্ত হলেন জেলা জজরা। আগে তাদের অবস্থান ছিল সচিবদের থেকে আট ধাপ নিচে। ওই সময়ে জেলা জজদের পদমর্যাদার অবস্থান ছিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ২৪ ক্রমিকে। এখন তারা সচিবদের সঙ্গে ১৬ ক্রমিকে অবস্থান করছেন। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় সংশোধন ও পরিমার্জন করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় প্রকাশ করেছে।  
 
রায়ে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালতের সর্বোচ্চ পদ হচ্ছে জেলা জজ।  ইতিপূর্বে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ২৪ নম্বর ক্রমিকে রাখা ছিল তাদের জন্য মর্যাদাহানিকর। আপিল বিভাগের রায়ে অতিরিক্ত জেলা, দায়রা জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদেরকে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। 
 
রায় অনুযায়ী তাদের অবস্থান ১৭ নম্বর ক্রমিকে। ইতিপূর্বে অতিরিক্ত জেলা জজরা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। 
 
আদালত রায়ে আরো বলেছে, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে একই ক্রমিকে একাধিক সমমর্যাদা সম্পন্ন পদের মধ্যে সাংবিধানিক পদধারীদেরকে প্রথমে রাখতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছে, সংবিধানই হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আইন। অতএব এ আইনটি প্রাধান্য দিতে হবে। 
 
সরকারের কার্যপ্রণালি বিধিমালা (রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী) ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০০০ সালে এটি সরকার সংশোধন করে। সংশোধিত এই ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান। ওই রিটের ওপর ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেয়। 
 
রায়ে ওই ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে বাতিল করে আট দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়- জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ, মুখ্য বিচারক হাকিম, মুখ্য মহানগর হাকিমদের পরের ক্রমিকে থাকবেন তিন বাহিনীর প্রধানরা। সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারদের অবস্থান হবে তিন বাহিনীর প্রধানদের উপরে। 
 
২০১৫ সালে ১১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় সংশোধন ও পরিমার্জন করে দেয়। এরপর আজ বিচারপতিরদের স্বাক্ষরের পর উপরোক্ত রায় প্রকাশ করা হয়। 
 
বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওহাব মিয়া, বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ রায় স্বাক্ষর করেন। প্রকাশিত রায়টি ৬২ পৃষ্ঠার।
 
 
ইত্তেফাক/কেকে