মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গেছেন হিলারি ক্লিনটন। নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়ে তিনি বিজয়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। কিন্তু হিলারি সমর্থকেরা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে মানতে রাজি হচ্ছেন না। ট্রামেপর বিজয় তাদের ক্ষুদ্ধ করে তুলেছে। এর অংশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ডেমোক্র্যাট স্টেট ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ একাধিক রাজ্যে শুরু হয়েছে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ।
এদিন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সব শহরের রাস্তায় অবস্থান নেন। অনেক স্থানে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেন। এসময় তারা ‘ট্রামপ আমার প্রেসিডেন্ট নন’, এই শ্লোগান দেন এবং ব্যানার উঁচিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। পুলিশ কয়েকজনকে বিক্ষোভ আটক করে পরে ছেড়ে দেয়। পরিস্থিতি এখনো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে যে কোনো সময় বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের একশ্রেণীর বাসিন্দা তাদের রাজ্যকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণার দাবি তুলেছে। যদিও ‘ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়া ইন্ডিপেন্ডেন্টস ক্যাম্পেইন’ নামে একটি সংগঠন অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন সময় এ দাবি করে আসছিল। নির্বাচনে পরাজয়ের পর হিলারি সমর্থকদের সঙ্গে এই সংগঠনটি একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনকে জোরালো করার চেষ্টা করছে মাত্র, এমনটা মনে করছেন অনেকে।
অকল্যান্ডে বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুর করেছে। এসব স্থানে রায়ট পুলিশ ডাকা হয় এবং তারা টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে বলে জানা গেছে। পোর্টল্যান্ড, ওরিগনের মতো কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পুড়িয়েছে। এসময় তারা একটি আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। লস অ্যাঞ্জেলসে ট্রামপবিরোধী সমাবেশের কারণে একটি প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।
নিউইয়র্কের ব্যস্ততম ম্যানহাটনে ট্রামপ টাওয়ারের সামনে কয়েক হাজার মানুষ অবস্থান নিয়ে অভিবাসন, সমকামী অধিকার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রামেপর নীতির বিরোধিতা করেন। এসময় পুলিশ সেখানে কড়া অবস্থান নেয়। সেখান থেকে অন্তত ১৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয় । তবে বিভিন্ন রাজ্যে ট্রাম্পবিরোধী বেশিরভাগ র্যালি হয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।
পেসসেলভেনিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়া, ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের বোস্টন, মিশিগান রাজ্যে অ্যান আরবর, ওয়াশিংটনের সিয়াটল এবং ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এসব বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগই শিক্ষার্থী আর তরুণ ভোটার। মিশিগানের অ্যান আরবরে মিশিগান ইউনিভার্সিটির একদল শিক্ষার্থী বুধবার রাতে ক্যাম্পাসে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ করে। ট্রাম্প সমর্থকেরা এসময় মুখোমুখি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
ওয়াশিংটনের সিয়াটলে ট্রামপবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে এক বন্দুকধারীর গুলিতে এক নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের অবস্থা শঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
‘ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়া ইন্ডিডেপেন্ডেন্টস
ক্যাম্পেইন’ কেনো?
এই সংগঠনের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্ অর্থনীতির অঞ্চল ক্যালিফোর্নিয়া অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ফ্রান্সের চেয়ে শক্তিশালী। এর জনসংখ্যা পোল্যান্ডের চেয়ে বেশি। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অন্য ৪৯টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গেই নয়, বিভিন্ন বিবেচনায় যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে ক্যালিফোর্নিয়া। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অনেক মূল্যবোধ আছে, যেগুলোর সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার বিরোধ রয়েছে। এভাবে থাকার অর্থ হলো, আমরা অন্য রাজ্যগুলোর জন্য অব্যাহতভাবে আমাদের ক্ষতি করে যাব, আমাদের শিশুদের অকল্যাণ বয়ে আনব।
‘ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়া ইন্ডিপেন্ডেন্টস ক্যাম্পেইন’-এর প্রধান লুইস ম্যারিনেলি বলেন, এখন এ অঙ্গরাজ্যের প্রচুর মানুষ তাদের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছেন। অনেকেই স্বাধীনতার জন্য গণভোট চেয়ে তাঁদের তৈরি দাবিনামার অনলাইন সংস্করণ দেখতে চেয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএন
