যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শুক্রবার চতুর্থ দিনের মত দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে এসে ট্রাম্প বিরোধী সমাবেশ ও মিছিল করেছে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানও দেয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বিক্ষোভকারীরা নিউ ইয়র্ক সিটির বিভিন্ন রাস্তায় নেমে আসে। নগরীতে লোয়ার ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন স্কয়ারে প্রায় এক হাজার ২শ’ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। এদের কয়েকজনের হাতে লাল বেলুন ও কয়েক জনের হাতে প্ল্যাকার্ড ছিল। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- 'শান্তি ও ভালবাসা'। আরেকটিতে লেখা ছিল, 'আমাদের পথে আপনি দেয়াল তুলতে পারেন না।' ট্রাম্প নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে একটি দেয়াল নির্মাণের অঙ্গীকার করেছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেয়ার পর তার নীতির কারণে মেক্সিকো থেকে আসা অভিবাসী ও মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছেন। আর আমরা তাদের এ আশংকার সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছি।
জনৈক বিক্ষোভকারী কিম বায়ের (৪১) বলেন, 'ট্রাম্প যাদের অপমান করেছেন তাদের সমর্থন করতে আমরা এখানে এসেছি। আমরা আমাদের সন্তানদের দেখাতে এসেছি, আমরা একই সুরে কথা বলি এবং জনগণের অধিকারের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি।'
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকারের বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আমরা ভয় পাচ্ছি। আমি আমার জীবনে এত ভয় পাইনি। আমাদের বাইরে বের হয়ে আসতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে হবে। অপর বিক্ষোভকারী জেমি (২৫) বলেন, অভিবাসী, সংখ্যালঘুসহ যারাই নির্বাচনকে হুমকি মনে করছেন এবং ভয় পাচ্ছেন তাদের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শনই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, অনেক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আমাদের ভালবাসার বার্তা দেয়া প্রয়োজন।
উদ্যোক্তারা শনিবারও একই স্থানে বড় ধরনের সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে মায়ামিতেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। তারা বর্ণবাদ ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিতাড়নের বিরোধিতা করে লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করছিল।
লস অ্যাঞ্জেলসেও ছোট আকারে বিক্ষোভ হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলসের দক্ষিণে একটি রাস্তায় বেশ কয়েকজন নারী প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন। এতে ওই সড়কে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কোস্টা মেসায় একটি চার লেনের সড়কে বেশ কয়েকজন নারী ট্রাম্প বিরোধী মিছিল করেন। এ সময় তাদের হাতে একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল 'ঐকমত'। গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নগরীতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছেন। বাসস।
ইত্তেফাক/আরএ
