জুরাইনে রেললাইন ঘেঁষে অবৈধ বাজার

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০৪

রাজধানীর জুরাইন রেললাইন ঘেঁষে আবার অবৈধ অস্থায়ী বাজার গড়ে উঠেছে। ফলে সেখানে ঝুঁকি নিয়ে চলছে বেচাকেনা। একই সাথে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ট্রেন চলাচলও।

 
গতকাল সোমবার সকালে জুরাইন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জুরাইন লেভেল ক্রসিংয়ের পশ্চিম দিকে প্রায় আধা-কিলোমিটার অংশে রেললাইনের দুই পাশে বিভিন্ন পণ্যের পসরা। পূর্বদিকে কাঠের আসবাবপত্রের দোকানও সাজানো হয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে এক ঘণ্টা পরপর ট্রেন চলাচল করে। দেখা গেল, এ অবস্থার মধ্যেই ভাসমান বিক্রেতারা রেললাইন ঘেঁষে পসরা সাজিয়েছেন, ট্রেন আসার শব্দ পেলে দ্রুত সরে যাচ্ছেন। রেলপথের দুই ধারে ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলছে বেচাকেনা।
 
মাস ছয়েক আগে জুরাইন রেললাইন ঘেঁষা এবং আশপাশে রেলের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা পাকা, আধা-পাকা এবং টিনের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এর কিছুদিন পরই আবার বাঁশের স্থাপনা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে গতকাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রেললাইন থেকে কিছু দূরে পাকা বেশ কিছু ভবন এখন পর্যন্ত ভাঙ্গা অবস্থাতেই রয়েছে।
 
এ ব্যাপারে ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, একবার উচ্ছেদ হলে আবার ভাসমান দোকানপাট গড়ে ওঠে। তবে বিভিন্ন স্থানে রেল লাইনের ধারের অবৈধ স্থাপনা নিয়মিত উচ্ছেদ হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জুরাইনসহ নারায়ণগঞ্জ রুটের অবৈধ বাজারও উচ্ছেদ করা হবে।
 
জুরাইন রেললাইনের কাছাকাছি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাজার রয়েছে, যেগুলোর বৈধতার ছাড়পত্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে জুরাইন নিউ সুপার মার্কেট, তালপট্টি মার্কেট, মত্স্য মার্কেট, মুরগি হাট, ফার্নিচার মার্কেট ইত্যাদি। মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ী সমিতির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেলের কিছু কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আবারও রেললাইন ঘেঁষে অবৈধ বাজার গড়ে উঠেছে। এলাকার থানা বা রেলওয়ে পুলিশও অবৈধ দোকানিদের বাধা দেয় না।
 
রেললাইন ঘেঁষা বাজারগুলোয় তরিতরকারী ছাড়াও পাওয়া যায় হাঁস-মুরগি, ফল, পান, প্লাস্টিক সামগ্রী, হাঁড়ি পাতিল ও খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
 
জানা যায়, ভাসমান বলা হলেও এখানে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা বেচাকেনা চলে। মূল বাজারের চেয়ে দামে সস্তা বলে এসব দোকানে ক্রেতাদেরও ভিড় বেশি।
 
রেললাইনের কাছে ঝুঁকি নিয়ে বসেছেন কেন? এমন প্রশ্নে দীন ইসলাম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, অন্য কোথাও বসার জায়গা নেই। এখানে পণ্য বিক্রি করে যা আয় রোজগার হয় তা দিয়েই কোনো মতে চলে যায় তার অভাবের সংসার।
 
তবে ট্রেন আসার আভাস পেলে তারা ক্রেতাদের সতর্ক করে দূরে সরিয়ে দেন। অন্যদিকে একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূল বাজারের চেয়ে অনেক সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যায় বলে তারা এসব দোকান থেকে কাঁচা সামগ্রী কিনেন।
 

ইত্তেফাক/এএন