ঘিওর উপজেলার ইছামতির শাখা নদীর উপর নির্মিত কুস্তা ব্রিজটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রিজটি পশ্চিম প্রান্তের মাঝখান থেকে পিলারসহ ধসে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ভাঙা অংশে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। ব্রিজের পূর্ব পাশের অবস্থাও সংকটাপন্ন। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে গিয়ে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা ইছামতি শাখা নদীর উপর ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে প্রায় দশটি গ্রামের হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। উপজেলা এলজিইডি ১৯৯৫-৯৬ অর্থ বছরের প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজটি নির্মাণ করে। ১৯৯৮ সালের বন্যায় ইছামতি নদীর ভাঙনে ব্রিজের দুইপাশের পিলার থেকে মাটি সরে যায়। পশ্চিম প্রান্তের অংশবিশেষ এক পর্যায়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ব্রিজটির সংস্কার করা হয়নি। গত বন্যায় ব্রিজের পিলারসহ একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। পরে এলাকার লোকজন বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের উপরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনোমতে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা করেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে কুস্তা, নারচী, বেগুন নারচী, শোলাকুরিয়া, শ্রীধরনগর, কুমুরিয়া, খলসী, বিনোদপুর, ঘিওর হাটের লোকজন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় দশটি গ্রামের হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। বাজারে তাদের পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে।
ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, অনেক আগে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করার পর তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে ১০/১২টি গ্রামের মানুষজনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
এলজিইডি প্রকৌশলী সাজ্জাকুর রহমান জানান, আমি কুস্তা ইছামতি শাখা নদীর উপর ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। তবে জরুরি ভিত্তিতে আইআরআইবিটি-২ প্রকল্পের আওতায় ব্রিজটি নির্মাণের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আমরা এখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করতে পারবো।
ইত্তেফাক/এএন
