অভিবাসী সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ নিন

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৬, ২৩:২৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যসমূহের সফল বাস্তবায়নে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিবাসীর চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে আমরা কখনোই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে সক্ষম হবো না। শেখ হাসিনা মঙ্গলবার রাতে মরক্কোর মারাকাশে জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-২২) উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ কথা বলেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। এই বৈঠকে বাংলাদেশসহ ১১৫টি দেশের ৮০ জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সিনিয়র মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন।

 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মারাকাশ সম্মেলন বিশেষ তাত্পর্য বহন করে। কারণ গত বছর প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তুলতে স্বাক্ষরিত   ঐতিহাসিক চুক্তি চলতি বছর বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। গত বছর গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ এগিয়ে নেয়ার এটাই সময়-উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্যারিস চুক্তি অর্থবহ সহযোগিতার সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
 
তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম সারির দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুতে আমাদের অঙ্গীকার পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কোটি কোটি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করবে।
 
তিনি আরো বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে নিরাপদ ও সুন্দর করতে আমাদের অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে সবাইকে অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হতে হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব তহবিল থেকে ৪শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে সর্বপ্রথম ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট’ গঠন করেছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো জলবায়ু সম্পৃক্ত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাফল্য অর্জন করেছে।
 
তিনি পূর্বসতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণসহ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেন, এসব পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে দুর্যোগকালে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমেছে।
 
পানি সম্পর্কিত জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে গৃহীত এ্যাকশন প্লানের প্রতি তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী পানি বিষয়ে টেকসই উন্নয়ন অর্জনে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে সহায়তা করতে একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফিলিস্তিনির প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ, সুইজারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বারনাবাস শিবোসিসো দন্ডামিনি, কুক আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হেনরি পুনা, ফিজির প্রধানমন্ত্রী জোসাইয়া ভি বাইনিমারামা, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উরো কেনিয়াত্তা, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামি, পলৌটমির প্রেসিডেন্ট ই রেমেনজেসাউ জুনিয়র, এবং মার্শাল আইসল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মিজ হিলডা হেইনে।
 
এর আগে কনফারেন্স ভেন্যুতে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান মরক্কোর রাজা ৬ষ্ঠ মোহাম্মদ, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, ইউএনএফসিসি’র নির্বাহী সম্পাদক পেট্রেসিয়া ইস্পেনোসা এবং কপ-২২ এর প্রেসিডেন্ট সালাহেদিন মেজোয়ার।
 
এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ৫৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সফরসঙ্গী অন্যদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। 
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর
 
সংবাদ সম্মেলন
 
গতকাল বুধবার সম্মেলন কেন্দ্রের রাবাত সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সম্মেলন করে। এতে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে প্যারিস চুক্তি অনুমোদনকারী প্রথম দেশগুলোর একটি। এছাড়া বাংলাদেশই প্রথম রাষ্ট্র- জলবায়ু পরিবর্তনে নিজস্ব অর্থে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে। এ পর্যন্ত এই তহবিলের নিজস্ব সম্পদ থেকে প্রায় ৪০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মত উচ্চমাত্রার ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ জিসিএফ, লস এন্ড ড্যামেজ তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ দাবি করেছে। জলবায়ু উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সহায়তা কামনা করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ এমপি এবং পরিবেশ সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
 
শিল্পোন্নত ও স্বল্পোন্নত
 
দেশগুলোর বিরোধ তুঙ্গে
 
এদিকে, সম্মেলনের শেষ মূহূর্তে শিল্পোন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। উন্নত বিশ্ব ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ আরো বেড়েছে। মরক্কো ঘোষণায় এখনো ১৩৭ দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ৮৭ দেশ মরক্কো ঘোষণার খসড়ায় আপত্তি জানিয়েছে। এ নিয়ে চলছে তুমুল বাকবিতণ্ডা। সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে চলছে পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ। মরক্কো সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, সাউদ আফ্রিকা ও জাপানের সমালোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তার ব্যাপক সমালোচনা করা হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলো বলছে জলবায়ু আলোচনায় শিল্পোন্নত দেশগুলো বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
 

ইত্তেফাক/এএন