মানিকগঞ্জ পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই শহরের প্রধান-প্রধান সড়কে বসানো হয়েছে ড্রেজারের পাইপ। সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে শহরের প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে বসানো হয়েছে ড্রেজারের পাইপ। ওই পাইপ ব্যবহার করেই বেউথা কালীগঙ্গা নদী থেকে মাটি তুলে নিচু এলাকা ভরাট করা হচ্ছে। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
বেউথা কালীগঙ্গা নদী থেকে মাটি তুলে এই পাইপ দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের পেছনের ডোবা। বেউথা এলাকার সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ডোবা পর্যন্ত প্রায় ১কি.মি জায়গায় আট ইঞ্চির পাইপ দিয়ে তোলা হচ্ছে এই মাটি। পাইপ বসাতে ভেঙে ফেলা হয়েছে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও দেবেন্দ্র কলেজের সীমানা প্রাচীর। এর আগে জেলা জজ কোর্টের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পাইপ বসানোর চেষ্টা হলেও আপত্তির মুখে তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে পাইপ ঢাকতে প্রায় চার ফিট উঁচু করে মাটি ফেলে ঢাল তৈরি করা হয়েছে।
আট হাজার ফুটের এই পাইপ বসাতে খোঁড়া হয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সড়ক। বেউথা, এলজিডির পূর্ব পাশে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালের সামনে, এস কে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তায় ও আদালত এলাকায় সুইট হ্যাভেনের সামনে রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। এতে রোগী, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও আদালতে আসা লোকজনের চলাচলে সমস্যার হচ্ছে। এ সকল স্থানে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহান বলেন, দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের ডোবা ভরাট করে মাঠ তৈরির জন্য সমপ্রতি কাবিটা(কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বেউথা কালীগঙ্গা নদী থেকে পাইপের মাধ্যমে মাটি তুলে নিচু এলাকাটি ভরাট করা হবে।
এ কারণেই প্রধান দুটি সড়কসহ শহরের উপর দিয়ে পাইপ বসাতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক জানেন। সড়কের উপর দিয়ে পাইপ বসাতে পৌর মেয়রের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা গাজী কামরুল হুদা সেলিম জানান, মাইকিং করে রাস্তার ওপর পাইপ বসাতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও দেবেন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষ পাইপ বসিয়েছে। সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মাটি ভরাটের জন্য পাইপ লাইন নিতে পৌরসভা বরাবর আবেদন করলেও অনুমতি দেননি তারা। অনুমতি না নিয়ে শহরের উপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহাদত্ খন্দকার সরকারি কাজের কথা বলে স্কুলের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পাইপ লাইন নেওয়ার অনুরোধ করেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমরা সীমানা প্রাচীর ভাঙতে দেই।
এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদত্ খোন্দকার জানান, সরকারি কাজের স্বার্থে শহরের উপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত। আগামী এক মাসের মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/এএন
