বিভিন্ন পথে আসছে ইয়াবার বড়বড় চালান, নাগালের বাইরে নেপথ্য নায়করা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৬, ২০:২১
কড়া নজরদারির মধ্যেও যখন-তখন পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট। মুড়ি-মুড়কির মতো ইয়াবা বড়ি গোটা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সীমান্তপথে এসব ইয়াবা বড়ি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকছে। শুধু টেকনাফে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ধরা পড়েছে ১০ লাখ সাড়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি। এদিকে বেশ কয়েকদিন মিয়ানমার চলমান পরিস্থিতির কারণে টেকনাফ সীমান্তে বাড়তি নজরদারি রেখেছেন বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। তবুও ঢুকছে ইয়াবার বড় চালান।
 
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ রবিবার (২০ নভেম্বর) ৬ লাখ ৯১ হাজার ১০৪ পিস ইয়াবাবড়ি উদ্ধার করা হয়, যার দাম ২০ কোটি ৭৩ লাখ ৩১ হাজার ২০০ টাকা টাকা। এটি তাদের সর্বোচ্চ চালান। এছাড়া ৯ নভেম্বর শনিবার রাতে বিজিবির টেকনাফের সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। চলতি মাসের নভেম্বরের প্রথম দিন থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৫৫ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ৪ পাচারকারীকে আটক করা হয়। গত অক্টোবর মাসে ১০ লাখ সাড়ে ৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হলেও নভেম্বর মাসে ২০ দিনের মাথায় প্রায় ১১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। এতে ইয়াবা উদ্ধারের সংখ্যা হিসাব করলে বুঝা যায় পরিমাণ কি হারে বাড়ছে।
অনেকের মতে, ইয়াবার স্বর্গ টেকনাফ। কোনোভাবেই যেন ইয়াবার 'স্রোত' ঠেকানো যাচ্ছে না। অনেকে ইয়াবার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বাড়ছে পারিবারিক কলহ। মিয়ানমার থেকে নদী ও স্থলপথে বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার পিস ইয়াবা ঢুকলেও এর নেপথ্য নায়করা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
 
টেকনাফ থেকে নাফ নদী পার হলেই ওপারে মিয়ানমারের মংডু এলাকা।মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 
মিয়ানমার থেকে নদী ও সাগরপথে ইয়াবার চালান ঢুকছে। বর্তমানে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে প্রশাসনের কড়া নজরদারির কারণে মূল হোতাদের কেউ কেউ রুট পরিবর্তন করে সাগরপথ বেছে নিয়েছেন।
কোস্টগার্ডের টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. নাফিউর রহমান জানান, ইয়াবা ঠেকাতে কোস্ট গার্ড সব সময় সর্তক রয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে নভেম্বর ২০ তারিখ পর্যন্ত ১৩ লাখ ৪২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় ১২ জন পাচারকারীকে আটক করে থানায় ৮টি মাদক মামলা করা হয়। তা ছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
 
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ জানান, তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, নভেম্বর মাসে বিশ দিনে প্রায় ১১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে ১০ লাখ সাড়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে বিজিবি। এসময় ১৮ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
 
তিনি আরো জানান, ইয়াবার প্রবেশ ঠেকাতে হলে মিয়ানমারের ভেতরে থাকা কারখানা বন্ধের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, ইয়াবাসেবীদের ব্যাপারে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এমন কি ইয়াবা ঠেকাতে আলাদা একটি আইন করার কথা বলেন বিজিবির এ কর্মকর্তা। বিশেষ করে ইয়াবাসহ মাদক ঠেকাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া প্রয়োজন।
 
 
ইত্তেফাক/এমআর/এমআই