কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর বাজার এলাকা এবং কোদালকাটি বাজার এলাকায় অসময়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ১০ দিনে ওই ইউনিয়নে প্রায় ৪শ’ পরিবারে তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছে।
সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নয়াচর বাজার এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার ও কোদালকাটি বাজার এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ভাঙনে বিলীন হচ্ছে দিয়ারারচর, সবুজপাড়া, গোয়ালপাড়া, বাজারপাড়া এবং দিয়ারারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অপরদিকে কোদালকাটি ইউনিয়নের বাজার পাড়া, সাজাই হাটুদেওয়ানী পাড়া, মধ্য সাজাই, কারিগরপাড়ায়সহ দুই কিলোমিটার জুড়ে ভাঙনের তাণ্ডব চলছে।
নয়াচর গোয়ালপাড়া গ্রামের দিনমজুর চাঁন মিয়া বলেন, ‘মরার নদী আমগর ফকির কইরা দিল। শেষ সম্বল বাড়ির ভিটা তাও নদীদিত চইলা গেল। পোলাপান নিয়া এহন মাইনসের জায়গা আছি।’
একই গ্রামের হাফিজা বেওয়া বলেন, ‘থাওনের মতো আমার এডা ঘর ছিল এহন আর নাই। এই নদে আমি ১৫ বার ভাঙনের শিকার হয়েছি।’
রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম জানান, নয়াচর আর কোদালকাটিতে নদী ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, নয়াচর বাজার এলাকায় আমরা এরই মধ্যে বালির বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলেছি।
ইত্তেফাক/এমআর/ইউবি
