নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নিরাপত্তার জন্য উপজেলাকে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরো ১৯টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।
সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন এ কথা বলেন। তিনি জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নিরাপত্তায় নাসিরনগরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য উপজেলাকে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের সাথে উঠান বৈঠক ও সম্প্রীতি সমাবেশ করেছেন। তিনি বলেন, নাসিরনগরের পরিবেশ এখন স্বাভাবিক। তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশ কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করছে না। ইতিপূর্বে যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, প্রত্যেককেই ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সনাক্ত করার পর এবং বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন ধরনের আতংক নেই বলেও এই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন।
গত রবিবার দুপুরে নাসিরনগরের হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু জাফরসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,গত ২৯ অক্টোবর ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর করে দুষ্কৃতিকারীরা। এ সময় দুষ্কৃতিকারীরা ১০টি মন্দির ও অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
গত ৪ নভেম্বর ভোরে এবং ১৩ নভেম্বর ভোরে দুষ্কৃতিকারীরা পুনরায় উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের ৬টি পরিত্যক্ত গোয়ালঘর ও রান্না ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক ৭টি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজ দেখে ৮৫ জনকে গ্রেফতার করে। -বাসস।
ইত্তেফাক/এমআর/এমআই
