দক্ষিণ সিটিতে রাস্তা তৈরিতে পরিবেশবান্ধব মেশিন

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৬, ০০:৩৩

দেশে প্রথমবারের মতো পুরাতন রাস্তা কেটে নতুন রাস্তা তৈরির ‘বিশেষ যন্ত্র’ আমদানি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পরিবেশবান্ধব এ যন্ত্র দিয়ে পুরাতন সব ধরনের রাস্তা কম সময়ের মধ্যেই কেটে নতুন রাস্তা তৈরি করা যাবে। এতে নির্মাণ ব্যয় প্রতি কিলোমিটারে কমপক্ষে ৪৫ ভাগ কমে আসবে। রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহূত নতুন দুটি আধুনিক যন্ত্রের নাম হচ্ছে— ‘কোল্ড রিসাইক্লিং এ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট’ এবং ‘কোল্ড মিলিং মেশিন’। এসব যন্ত্র ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৯০ ভাগ কম হবে। এটি থেকে ধুলাবালি কিংবা ধোঁয়াও নির্গত হবে না।

 
জানা যায়, ক্যাটারপিলার ব্র্যান্ডের কোল্ড মিলিং মেশিনটি ইতালিতে তৈরি। এটি প্রায় ১৩ ইঞ্চি গভীর এবং প্রায় ৭ ফুট পিচ ঢালাইয়ের আস্তরণ কাটতে পারে। প্রতি ঘণ্টায় কাটতে পারে ৭ হাজার ৫০০ ফুট রাস্তা।
 
গত শনিবার রাজধানীর পলাশী এলাকায় এ যন্ত্রের সাহায্যে সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। এটি ঘণ্টায় ১২০ টন পিচের ঢালাই তৈরি করতে সক্ষম। এছাড়া এ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত বা উঁচু হয়ে যাওয়া সড়ক কাটা হবে। কেটে নেয়া সড়কের এসব উপাদান রি-সাইক্লিং প্ল্যান্টে নিয়ে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা হবে।
 
এতে সড়কের তুলে নেয়া উপকরণের ৪০ শতাংশ ব্যবহার করা যাবে। এ পদ্ধতিতে ১ কিলোমিটার দৈর্ঘের ১২ ফুট প্রশস্ত একটি সড়কের পুরাতন কার্পেটিং তুলে নতুনভাবে কার্পেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, পরিবেশবান্ধব নতুন এ যন্ত্রের সাহায্যে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কাজের খরচ ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ কমে যাবে। এটি সড়ক নির্মাণের একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি। যে রাস্তাটি বানাতে ১ কোটি টাকা লাগতো, সেটি সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকায় আমরা বানাতে পারব। এখানে আমাদের বিশাল পরিমাণ খরচ বাঁচবে।
 
তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে সড়কের উন্নয়ন কাজ করার ফলে সড়কের উচ্চতা আস্তে আস্তে বেড়ে যায়। ফলে পাশে যে বাড়িঘর থাকে বৃষ্টির পানি সেসব বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সমস্যা আর থাকবে না।
 
মেয়র বলেন, আধুনিক কোল্ড মিলিং মেশিনে সড়কের কার্পেটিংয়ের আস্তরণ কাটা হচ্ছে। অন্য সিটি করপোরেশন বা সড়ক নির্মাণে যুক্ত সরকারি সংস্থা তাদের এ মেশিন ব্যবহার করতে চাইলে সহযোগিতা করবেন বলে জানান তিনি।
 
বর্তমানে রাজধানীর দুই সিটিতে রাস্তার ইটের খোয়া, কংক্রিট আর বিটুমিনের কারণে রাস্তার আস্তরণ বাড়তে থাকে। একইস্থানে প্রতিবছরই এসব মালামাল দিয়ে রাস্তার সংস্কার কাজ করায় অনেক স্থানেই বাড়ির চেয়ে রাস্তার উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে।
 
ক্রমান্বয়ে রাস্তার উচ্চতা বাড়ায় অনেকদিন আগে তৈরি করা বাড়ির মালিকদেরকে বৃষ্টি এলেই সমস্যায় পরতে হচ্ছে। রাস্তার তুলনায় বাড়ির উচ্চতা কমে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জমে থাকা পানি গড়িয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।
 
দক্ষিণ সিটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান বলেন, নতুন পদ্ধতিতে রাস্তা তৈরি করলে পুরোনো রাস্তায় আর নতুন করে কোনো বিটুমিন বা ইটের খোয়া ফেলতে দেয়া হবে না। পুরাতন আস্তর তুলে এর উপরই নতুন করে রাস্তা তৈরি করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে।
 
ইত্তেফাক/এএন