সুন্দরবনে চলছে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়া মৌসুম

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৬, ০১:৩৭

সুন্দরবন উপকূলে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়া মৌসুম চলছে। গত মাসে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের দুবলাসহ ছয়টি চরে এ মৌসুম শুরু হলেও জেলেরা মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়া শুরু করেছে চলতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে।

 
কয়েক হাজার জেলে এখন সুন্দরবনের সাগর উপকূলে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়া করতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। প্রতিবছরের অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ মাসব্যাপী থাকে এ মৌসুম। গত বছর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ শুঁটকি আহরণ মৌসুমে ৯ হাজার ৮৩৮ জন  জেলের কাছ থেকে এক কোটি ৭০ লাখ ৮৮৫ টাকা রাজস্ব আদায় করলেও এবার এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দু কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে বলে আশা করছে বন বিভাগ।
 
এদিকে এ বছর সুন্দরবনের শুঁটকি ব্যবসায়ীদের জন্য মৌসুমটি অন্যরকম। কারণ এরই মধ্যে বনদস্যু মাস্টার বাহিনী, ইলিয়াস বাহিনী, মজনু বাহিনী, শান্ত বাহিনী ও আলম বাহিনীর অনেক সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরা আশায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে জেলে ও শুঁটকি ব্যবসায়ীদের মাঝে। তবে এখনো বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বনদস্যু বাহিনী সুন্দরবনে জেলেদের মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করলেও র্যাব, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে সুবিধা করতে পারছে না তারা।
 
জেলে ও মহাজন সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি   মৌসুমকে ঘিরে এ বছর ১০-১৫ হাজার জেলে ও মত্স্য আহরণকারী জড়ো হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চর, মেহেরআলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল­া, মাঝেরকিল­া, শেলার চর ও নারকেলবাড়িয়া চরে। দুবলা  জেলে পল্ল­ীর জেলেরা নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুঁটকি তৈরির জন্য অস্থায়ী ডিপো ঘর ও মাচা তৈরি করেন।
 
দুবলার চর এলাকায় মাছ আহরণকারী জেলে ও মহাজনরা জানান, চলতি মাসের প্রথমে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাছ ধরা ব্যাহত ও রোদের অভাবে শুঁটকি করা না গেলেও বর্তমানে তাদের জালে প্রচুর মাছ পড়ছে। এছাড়া রোদের তাপও রয়েছে। এতে তারা ভালো মানের শুঁটকি তৈরি করতে পারছেন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মত্স্যজীবীরা এবার অনেক লাভ করতে পারবেন।
 
ইত্তেফাক/এএন