কেলেঙ্কারিতে ‘জড়িত’ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট, অভিশংসনের পরিকল্পনা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৬, ০২:০৮

ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে নিয়ে দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাই ‘অনেকটাই ভূমিকা’ রেখেছেন বলে দাবি করেছেন কৌঁসুলিরা। পার্কের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চই সুন-সিল এবং প্রেসিডেন্টের সাবেক দুই সহযোগী অভিযুক্ত হওয়ার পর প্রধান কৌঁসুলি লি ইয়ুং-রাইওল বলেছেন, ‘‘পার্ক ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে এতে জড়িত ছিলেন।” তাকে খুব শিগগিরই জেরা করা হবে। এ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান বিরোধী দল দুর্নীতির অভিযোগের কারণে পার্ক গিয়ন হাইকে অভিশংসিত করতে চাচ্ছে।

 
‘সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটরস অফিস’-এর প্রধান লি ইয়ং-রিয়েল বলেন, প্রেসিডেন্ট পার্কের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চই সুন-সিল এবং প্রেসিডেন্টের সাবেক সহযোগী আন চুং-বুমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বন্ধুকে প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাই যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। এর একদিন পর সোমবার বিরোধী দল তাদের অভিশংসনের পরিকল্পনার কথা জানায়। আর এই দুর্নীতির কেলেঙ্কারির ঘটনায় পার্ক ইতোমধ্যে অনেক চাপের মুখে পড়েছেন এবং জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে লি ইয়ং-রিয়েল বলেন, “প্রেসিডেন্ট তার বন্ধু চিই সুন-সিল, অ্যান চুং-বুম ও জিঅং হো-সেঅংয়ের কুকর্মের সহযোগী ছিলেন এমন বেশ কিছু প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর বিশেষ তদন্ত দল তদন্ত কাজ শেষ করেছে।”
 
যদিও পার্কের আইনজীবী দুর্নীতির সঙ্গে পার্কের জড়িত থাকার দাবি অস্বীকার করে বলেন, এটি পুরোটাই ‘কল্পনা’। কৌঁসুলিরা ‘কল্পনার বসত নির্মাণ করছেন’। পার্কের দীর্ঘদিনের বন্ধু চোই সুন-সিলকে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে ৬ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আদায় করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়।
 
বিরোধী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান চো মি-আয়ি বলেন, পার্ককে ‘কোন্ পদ্ধতিতে এবং কখন অভিশংসিত করা যায় তা আমরা দ্রুত পর্যালোচনা করবো। এ ছাড়া তার অভিশংসনের ব্যাপারে আমরা একটি উপ-কমিটি গঠন করবো।’ ইতোমধ্যে দুটি ছোট দল জানিয়েছে, তারাও পার্ককে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। এ দিকে দেশটিতে সাপ্তাহিক গণবিক্ষোভে লাখ লাখ লোক অংশ নেওয়ায় পার্ককে উত্খাতের ক্ষেত্রে আইনপ্রণেতাদের ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে।
 
পার্কের পাঁচ বছরের মেয়াদকাল ২০১৮ সালে শেষ হবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এক্ষেত্রে তিনি তার মেয়াদ শেষ করতে সম্ভাব্য সব কিছু করবেন। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহ বা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছাড়া ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টকে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করা যায় না। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টে তিন বিরোধী দলের যৌথভাবে ৫৫ শতাংশ আসনের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে; যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে না। অথচ অভিশংসন বিল পাস করাতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন।
 

ইত্তেফাক/এএন