ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেবেন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৬, ০১:২২

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। গতকাল বুধবার সকালে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর স্থানীয় বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অবস্থান, নির্বাচনের পরিবেশ ও নিজের পরিচিতির বিষয়সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলেন। ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী এ সময় জোর দিয়ে বললেন, ‘সারাদেশের মানুষের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জবাসীও দীর্ঘদিন ধরে অধিকার বঞ্চিত, বিশেষ করে তারা বর্তমানে বলতে গেলে ভোটের অধিকার হারা। সরকার গণতন্ত্র হরণ করেছে। আমার দৃঢ়বিশ্বাস-নারায়ণঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২২ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোটাররা মূলত বঞ্চিত হওয়ার প্রতিশোধ নেবেন ব্যালটের মাধ্যমে।’

 
আপনি তো অনেকটা নাটকীয়ভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি না হওয়ায় আপনাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, বিএনপির স্থানীয় আরও কয়েকজন নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এখন বিএনপির সকল নেতা-কর্মী-সমর্থকরা কি আপনার জন্য কাজ করবেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে এখন সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। কারণ সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর এতো বেশি নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এতো মামলা-মোকদ্দমা দিয়েছে যে তারা জেল খাটতে-খাটতে আর আদালতে হাজিরা দিতে-দিতে হাঁপিয়ে উঠেছে। সরকার ও প্রশাসনের এতোদিনের হয়রানির কারণে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এখন অনেক বেশি একাট্টা। সে জন্য আমি মনে করি, নানা কারণে কারও মধ্যে মনোকষ্ট বা দূরত্ব থাকলেও এই নির্বাচন উপলক্ষে মতপার্থক্য ভুলে সবাই ‘ধানের শীষ’-এর বিজয় নিশ্চিত করতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
 
‘আপনি কি শুধু বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপরই নির্ভর করছেন?’ সাখাওয়াতের জবাব- ‘না, শুধু দলীয় নেতা-কর্মীরাই নন, গোটা নারায়ণগঞ্জবাসীই ভোটের অপেক্ষায়। নিজেদের ভোটের অধিকার প্রয়োগের জন্য তারা দীর্ঘদিন অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তারা শুধু ভোটের পরিবেশ চান, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের নিশ্চয়তা চান। এটুকু পেলেই, অর্থাত্ ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন তাহলে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।’
 
‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপনি কেমন পরিবেশ এবং প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কি ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন?’- জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী বলেন, ‘এখনও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশিরভাগই দলীয়। প্রশাসনে এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন-যারা আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার। সেজন্য আমার দাবি হচ্ছে, অন্তত নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য এসব চিহ্নিত কর্মকর্তাদের যেন এখান থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রও জমা নিতে হবে। বিএনপিসহ ২০ দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা যাবে না, পুলিশ যেন তাদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি না দেখায়। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেখতে চায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও ইসির উচিত সকল পক্ষের জন্য সমান মাঠ প্রস্তুত করা।’
 
২০ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আমি শুধু বিএনপির নয়-২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী। প্রথমে ২০ দলের আরও দু’একজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ২০ দলের একক প্রার্থী হবো আমি।’ তার দাবি, বিএনপি, জামায়াতসহ ২০ দলের সবাই তার জন্য সক্রিয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে মাঠে কাজ করবে। দল ও জোটের স্থানীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে ইতোমধ্যে সবার সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান।
 
‘এই নির্বাচনে ‘অনাগ্রহী’ তৈমুর আলম খন্দকার কী আপনার জন্য মাঠে থাকবেন?’- এ প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত বলেন, ‘তৈমুর আলম খন্দকারের সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব নেই, উনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রধান, তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক, আমার বিশ্বাস তিনি মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।’
 
‘আপনার সম্পর্কে বলা হচ্ছে-আপনি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় ব্যক্তি নন, আপনি মুন্সীগঞ্জের সন্তান’- এর জবাবে বিএনপির প্রার্থী বলেন ‘মুন্সীগঞ্জের সন্তান হলেও আমি লেখাপড়া করেছি নারায়ণগঞ্জে, এখানে আমি ২৫ বছর ধরে আইন পেশায় জড়িত। তাছাড়া আমার পূর্বপুরুষরা এই নারায়ণগঞ্জে দেড়শ’ বছর ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন।’ তার দাবি, ভোটের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে না। এসময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াত্ আইভীর পূর্বপুরুষরা সবাই কি নারায়ণগঞ্জের?’
 

ইত্তেফাক/এএন