ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৬, ০৬:৫৪

গৌরীপুরে রামগোপালপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ায় রামগোপালপুর-গৌরীপুর সড়কের সেতুর নিচে বলেশ্বর নদীর মুখে মাটি ভরাট করে বাঁধ দেয়ায় কোনো কাজে আসছে না এলজিইডি নির্মিত দেড় কোটি টাকার ব্রিজ। ব্রিজটির মুখে প্রথমে কাঁচা, তারপর ব্রিজের নিচে পাকা বাঁধা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিসমিল্লাহ কো-অপারেটিভ নামে একটি সংগঠন।

 
এদিকে এ বাঁধের কারণে পানির নিচে তলিয়ে যায় শত শত একর জমির ফসল। তাত্ক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদে তত্কালীন সময়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। এ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর মাটির বাঁধ কেটে ও ব্রিজের নিচের পাকা বাঁধ ভেঙে পানি প্রবাহ সচল রাখতে লিজকারী প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়। তবে শুকনা মৌসুমে তা যেমন ছিলো তেমনই হয়ে যায়।
 
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ১৬ বছর আগে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ করেন। তবে নির্মাণের কিছুদিন পরেই বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বলেশ্বর নদীতে মত্স্য চাষের জন্য দলীয় লোকজন নামমাত্র টাকায় লিজ নেন। ওই সময়েই সেতুর সামনে মাটির বাঁধ তৈরি করা হয়। এছাড়াও সেতুর নিচে ইটের স্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়। সরকারের লিজ নেয়া বলেশ্বর নদীর পানির স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ করে দিয়ে শুরু হয় মাছ চাষ। যার কারণে কয়েক হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতায় ফসল উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে প্রতিবছর। ব্রিজের নিচে বাঁধ দেয়ায় রুকনাকান্দায় ৬২ লাখ টাকা দিয়ে নির্মিত অপর ব্রিজটিও অকেজো হয়ে পড়ে। উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের প্রায় ৬৭ একর আয়তনের বলেশ্বর নদীটি সরকারিভাবে তিন বছরের জন্য লিজ দেয় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। লিজে পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতি, অবকাঠামো অপরিবর্তন, অনুমোদন ব্যতীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড না করাসহ বিভিন্ন শর্তারোপ থাকলেও তা কেউ মানছে না। তবে এবার ব্রিজের সামনের অংশে নয়, বিপরীত অংশেও মাটি ভরাট কাজ শুরু হয়েছে।  উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বাঁধের কারণে উরুয়াকোনা, শ্রীধরপুর, বলুহা, রামগোপালপুর, নয়াগাঁও, রুকনাকান্দা, গুজিখাঁ, তাঁতকুড়াসহ ১৪টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।
 
রামগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, যেহেতু দীর্ঘদিন যাবত্ পানি প্রবাহের জন্য উন্মুক্ত ছিল, তাই জমির মালিককে নোটিস করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী তোজাম্মেল হক বলেন, ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

ইত্তেফাক/এএন