ধান বুঝে পেল সাঁওতালরা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৩৪
অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাঁওতালরা সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে তাদের রোপন করা ২৬ বস্তা ধান বুঝে নিয়েছে।  
 
এর আগে চিনিকল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় মেশিন (কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন) দিয়ে এই ধান কাটা শুরু করেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই একর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়। 
 
ধান কাটা শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শফিকুল ইসলাম, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মদ আলী, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার, বাংলাদেশ চিনি খাদ্য শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিসহ চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 
 
এ ছাড়া ওই এলাকায় সম্ভাব্য গোলযোগ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ধান কাটা নিয়ে প্রথমদিকে সাঁওতালদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা ওই ধান মিল কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে গ্রহণ করেন। পুরো বিষয়টি তদারকি করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। 
 
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আওয়াল জানান, মেশিন দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই করার পর বস্তাজাত করে সাঁওতালদের দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুই মন ওজনের ২৬ বস্তা ধান আদিবাসীদের বুঝে দেয়া হয়। 
 
সাহেবগঞ্জ-বাগদা ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সদস্য বার্ণাবাস টুডু জানান, ধান কাটা শেষে সন্ধ্যায় ২৬ বস্তা ধান মিল কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে বুঝে পেয়েছি। তবে ধান পরিমাপ করে দেখা হয়নি। 
 
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান, পরিমাপ করে দেখা গেছে ৪৫ দশমিক ৫০ একর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ একর জমির ধান কাটার উপযোগী হয়েছে। বাকী জমির ধান কাটার উপযোগী হতে আট থেকে দশ দিন সময় লাগবে। তাই হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের উপস্থিতি মিল কর্তৃপক্ষ ৩০ একর জমির ধান কাটা শুরু করে। 
 
প্রসঙ্গত. গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিতে আখ কাটাতে কেন্দ্র  করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়।
 
ইত্তেফাক/ইউবি