কিশোরগঞ্জে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়ম

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৬:০৩

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় টেংগনমারী-কিশোরগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে । সড়কটির বক্সকাটিং করার পর ইমপ্রুফ সাবগ্রেট ও সাববেজ করার সময় নিম্নমানের খোয়া ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও ওই সড়কে পাঁচটি আর সিসি কার্লভাট নির্মাণে রড ও পাথরের কাজে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। 

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, টেংগনমারী থেকে কিশোরগঞ্জের থানামোড় পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ১২ ফিট প্রস্থ্যের সড়কটি ১৮ ফিটে উন্নীত করার জন্য ২৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৮১৬ টাকা বরাদ্দ ধরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় তমা কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর। ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বেঁধে দেওয়া সময়ে কাজ শুরু না করে কালক্ষেপন করে কাজ শুরু করে ২০১৯ সালের ফ্রেব্রয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এর ফলে এলাকাবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্প এলাকার লোকজন। 

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুটিমারী শ্বশান বাজারের কাছের সড়কের উপরআর সি সি কালভার্টের সিলিং ঢালাইয়ের কাজ চলছে। কালভার্টটির সিলিং ঢালাই চলাকালীন সময়ে তদারকি কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ সময় কথা হয় প্রকল্প এলাকার আবুজার রহমান, বরকত উল্লাহ , সোনা মিয়া, জাফর আলীসহ অনেকের সঙ্গে।

তাদের অভিযোগ, সড়ক  প্রশস্তকরন কাজের এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের সাববেজ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে প্রথম শ্রেনীর ইট অথবা পিকেট ইটের ৬ ভাগ খোয়া ও চার ভাগ মানসম্মত বালু দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা না করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের খোয়া মেশার ও স্থানীয় নদী থেকে মাটি মিশ্রিত মিহি বালু দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন। এছাড়াও বক্স কাটিংয়ের পর দুই লেয়ারে এক ফিট বালু দিয়ে মজবুত একটি ইমপ্রুভ সাবগ্রেট তৈরী করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছেনা। ফলে সড়কের স্থায়ীত্ব কমে যাওয়ার আশংকাও করছে তারা। 

তারা আরও বলেন, 'ওই ১০ কিলোমিটার সড়কে আর সি সি ৫ টি কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে । এসব কালভার্টের নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কর্মকর্তা না থাকায় ঢালাইয়ের সময় মানসম্মত পাথরের সঙ্গে মরা এবং পরিত্যাক্ত পাথর মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে'। 

আরও পড়ুন:  ১০ হাজার টাকার জন্য খুন

এ বিষয়ে পুটিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটনের বলেন, 'সড়কটি নির্মাণে যাতে কোন অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যাবহার করা না হয় সে বিষয়ে আমি ঠিকাদারকে জোর অনুরোধ জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে লেখালেখি করার দরকার নেই। আমি ঠিকাদারকে বলে দিচ্ছি আপনাদের চা-নাস্তা খাওয়ার ব্যাবস্থা করে দেবে'। 

এদিকে ঠিকাদার মোস্তাফা কামাল রোকনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, 'প্রাথমিকভাবে সড়কের নির্মান কাজে খোয়া তৈরীর  জন্য ৭ লাখ ইট আনা হয়েছে। ভাটা থেকে ইট আনার সময় কিছু নিম্নমানের ইট আসতে পারে।তাছাড়া সড়ক নির্মাণের তিন বছর সময় পর্যন্ত ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা রয়েছে'।

নির্মাণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, 'সড়কের নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে এবং কালভার্ট ঢালাইয়ের সময় আমি নিজেই সেখানে উপস্থিত ছিলাম'। পাশাপাশি নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুর রহমান বলেন, 'কাজে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে'।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি