নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জাকারিয়া ভূইয়ার (৩৪) লাশ আজ বুধবার সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ফ্লাইটে জাকারিয়া ভূঁইয়ার লাশ বাংলাদেশের শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে আসে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত সাড়ে ১১টায় জাকারিয়ার লাশ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই আলমগীর ভুইয়া ও পলাশ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলার প্রকল্প ও বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফখর উদ্দিন রাজী এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মনির হোসেন। ২০ মার্চ জাকারিয়ার স্ত্রী রীনা আক্তার বন্ধুকধারীর গুলিতে নিহত স্বামীর লাশ আনতে নিউজিল্যান্ডে যান। সেখানে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার রাতে তার লাশ নিয়ে দেশে ফিরেন।
জাকারিয়া ক্রাইস্টচার্চে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ওয়েল্ডার টেকনেশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি জুমার নামাজ পড়তে আল নূর মসজিদে গিয়ে ছিলেন। পরে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ মুসল্লির মধ্যে জাকারিয়াও নিহত হন। জাকারিয়া ভূইয়া পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের আব্দুল বাতেন ভূইয়ার ছেলে। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে জাকারিয়া ছিলেন ৪র্থ। বন্দুকধারীর হামলায় নিহত জাকারিয়া ভূঁইয়ার লাশ রাত ১টা ৩০ মিনিটে তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরায় পৌঁছায়।
আজ বুধবার সকাল ১১টায় পলাশের গজারিয়ার জয়পুরা ঈদগাহ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা শেষে তাকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় নরসিংদী-৩ আসনের এমপি জহিরুল হক মোহন,ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান বধু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কারিউল্লাহ সরকার, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মুজাহিদ হোসেন তুষারসহ এলাকার কয়েক হাজার লোক অংশ নেন।
আরও পড়ুন: আবরারকে চাপা দেয়া বাসটি চালাচ্ছিলেন কন্ডাকটর
জানা যায়, নিহত জাকারিয়া প্রায় আড়াই বছর আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে পাড়ি দেন। সেখানে তিনি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ওয়েল্ডার টেকনোশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ৮ বছর সিঙ্গাপুরে কর্মরত ছিলেন। সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায়ই জাকারিয়া নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
জাকারিয়ার বাবা আব্দুল বাতেন ভুইয়া জানান, ২০১৬ সালের আগস্টে একই ইউনিয়নের সাধারচর গ্রামের আ. আলীর মেয়ে রীনা আক্তারকে বিয়ের ১৭ দিনের মাথায় নিউজিল্যান্ডে চলে যান জাকারিয়া। এবার রমজানের ঈদে এসে স্ত্রীকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতিও করেছিলেন জাকারিয়া।
ইত্তেফাক/কেকে
