পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করলে যাবজ্জীবন শাস্তির বিধান রেখে একটি আইন পাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিন্ধু প্রদেশের আইনসভায় এই আইন পাশ করা হয়।
নতুন এই আইনে পূর্ণবয়স্কদের ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ২১ দিন সময় দেয়া হবে, এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিজের ইচ্ছায় ধর্ম বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। বিলটিতে বলা হয়, জোরপূর্বক ধর্মান্তর সিন্ধু প্রদেশ জুড়ে বিদ্যমান। সহনশীলতা, শান্তি ও সব ধর্মের প্রতি সম্মানকে স্বীকৃতি দিতে এটি অবশ্যই নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করার চর্চার শিকার হওয়া মানুষদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এটিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা জরুরি।
এই আইনে কাউকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করলে সর্বনিম্ন শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। উল্লেখ্য, এক বছর আগে পাকিস্তান মুসলিম লিগ থেকে নির্বাচিত সনাতন ধর্মাবলম্বী জনপ্রতিনিধি নান্দ কুমার গোকলানি এই বিল প্রস্তাব করেছিলেন। পাকিস্তানের প্রথম প্রদেশ হিসেবে সিন্ধু এমন একটি আইন পাশ করলো। গোকলানি বলেন, সবার নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। আমরা এটা নিশ্চিত করা উচিত, যে কেউ যেন মানসিক বা শারীরিক চাপে পড়ে ধর্মান্তরিত না হয়। এই চর্চা বন্ধে এখন আমাদের একটি আইন রয়েছে। এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ডনের সম্পাদকীয়তে এই আইনের প্রশংসা করে লেখা হয়েছে, পাকিস্তানকে গর্বিত করলো সিন্ধু। আল জাজিরা।
ইত্তেফাক/এসএসএ
