ফিদেল আলেসান্দ্রো ক্যাস্ত্রো রুজ যিনি ফিদেল ক্যাস্ত্রো বা শুধুই ক্যাস্ত্রো নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কিউবার রাজনৈতিক নেতা ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী।
কিউবা বিপ্লবের প্রধান নেতা ফিদেল ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাস্থ্যগত কারণে স্বেচ্ছায় এ পদ থেকে সরে দাঁড়ান। সারা জীবনের বিপ্লবী এ নেতা শনিবার সকালে হাভানায় মারা যান।
১৯৬১ সালে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কিউবা কমিউনিস্ট দলের প্রধান ছিলেন। এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০৮ সালে তিনি তার দায়িত্ব ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর কাছে অর্পণ করেছিলেন। রাউল বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির সহকারী প্রধান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট।
১৯২৬ সালে কিউবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ওরিয়েন্টে প্রদেশে ক্যাস্ত্রো জন্মগ্রহণ করেন। হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার সময় ফিদেল ক্যাস্ত্রোর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এরপর কিউবার রাজনীতিতে একজন বিখ্যাত ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় প্রেসিডেন্ট বাতিস্তা এবং কিউবার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সমালোচনামূলক নিবন্ধ লিখে।
১৯৫৩ সালের সশস্ত্র দল নিয়ে মনকাডা আর্মি ব্যারাকে হামলা করেন ক্যাস্ত্রো। সংঘর্ষে তার দল পরাজিত হয়। সামরিক শাসক বাতিস্তার নির্দেশে তার ৮০ সহযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়। সৌভাগ্যক্রমে বাতিস্তার হত্যার আদেশ থেকে বেঁচে বেসামরিক কারাগারে ঠাঁই পান ক্যাস্ত্রো। কিন্তু কারাগারেও তাকে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্ব জনমতের কথা বিবেচনা করে তাকে হত্যা না করে বিচারের মুখোমুখি করেন বাতিস্তা। বিচারে তার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হলেও প্রবল জনমতের কাছে মাথা নত করে দুই বছরের মাথায় তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন বাতিস্তা।
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিপ্লবী দল গড়ার লক্ষে মেক্সিকোয় পাড়ি জমান ক্যাস্ত্রো। সেখানে একটি গেরিলা দল গঠন এবং পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র জোগাড়ের পর চে গুয়েভারা, জুয়ান আলমেইডাসহ একটি বিপ্লবী দল নিয়ে ১৯৫৬ সালে কিউবায় ফিরে আসেন। গেরিলারা একের পর এক শহর দখল করতে থাকে। এক পর্যায় ১৯৫৯ সালের পহেলা জানুয়ারি কিউবা ছেড়ে পালিয়ে যান জেনারেল বাতিস্তা। দক্ষিণপন্থি স্বৈরাচারী শাসক ফুলগেনাসিয়ো বাতিস্তা ক্ষমতা হারান ক্যাস্ট্রোর গেরিলা বাহিনীর কাছে।
ক্যাস্ট্রো ১৯৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র মদদপুষ্ট কিউবার নির্বাসিত ব্যক্তিদের চালানো অভিযান প্রতিহত করেন। ইতিহাসে এটা 'বে অব পিগস' অভিযান নামে পরিচিত। ক্যাস্ত্রো এ সময় এক হাজার ৪শ' যোদ্ধাকে পরাজিত করেন।
১৯৭৬ সালে কিউবার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে কিউবার শরণার্থী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেন। স্বাস্থ্যগত কারণে ২০০৮ সালে তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেন।
২০০৬ সালের জুলাইতে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ফিদেল ক্যাস্ত্রো অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। জীবনের শেষ কয়েকটি বছর জনসম্মুখে তাকে খুব একটা আর দেখা যায়নি।
১৯৪৮ সালে তিনি মার্তা দিয়াজ-বালার্তকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে জন্ম নেন ছেলে ফিদেলিতো। পরে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১৯৫২ সালে চিকিৎসক ন্যাতি রেভূলেতার তার দেখা হয় এবং তারা বিয়ে করেন। ১৯৫৬ সালে তাদের ঘরে কন্যা আলিনার জন্ম হয়। ১৯৫৭ সালে তিনি সেলিয়া সেনচেজকে বিয়ে করেন এবং ১৯৮০সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তার সঙ্গে ছিলেন।
১৯৮০'র দশকে ক্যাস্ত্রো ফের বিয়ে করেন। ডালিয়া সোতো দেল ভ্যালির সঙ্গে দাম্পত্যজীবনে তাদের পাঁচটি সন্তান হয়। তারা হলেন-অ্যাঞ্জেল, অ্যান্টোনিও, আলেজান্দ্রো, অ্যালেক্সিস ও অ্যালেক্স। -বাসস।
ইত্তেফাক/এসএস
