ফেনী কারাগারে ছয়গুণ বেশি কয়েদি! পালাক্রমে ঘুমাতে হচ্ছে বন্দীদের

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:৫৬

ফেনী জেলা কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার ছয় গুণ বেশি বন্দী অবস্থান করছে। বন্দী ধারণক্ষমতা ১৭২ জন হলেও এখানে ৮৮৭ জন বন্দী গাদাগাদি করে থাকে। এমনকি বন্দীদের থাকার জায়গা অপ্রতুল হওয়ায় পালাক্রমে ঘুমাতে হচ্ছে।

 
বর্তমানে কারাগারটিতে বন্দীদের মধ্যে পুরুষ হাজতি ৭৬২ জন, মহিলা হাজতি ১০ জন, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পুরুষ ৬০ ও মহিলা ২ জন, বিনাশ্রমে পুরুষ কয়েদি ৫৪ জন ও মহিলা ২ জন, আরপি ভারতীয় আসামি ৩ জন ও নাইজেরিয়ান হাজতি ৪ জন, মায়ের সাথে শিশু ১ জনসহ মোট ৮৯৪ জন বন্দী রয়েছে। এখানে একটি ছোট রুমে ১৫ জন মহিলা বন্দীকে থাকতে হচ্ছে।
 
জানা যায়, কারাগারটি ১৯১৫-১৬ সালে তত্কালীন বৃটিশ সরকারের অধীনে প্রায় ১.৫০ একর জমির উপর শহরের প্রাণকেন্দ্রে তত্কালীন ফেনী মহকুমার উপ-কারাগার হিসেবে নির্মাণ করা হয়। এখানে বন্দীদের রাখার জন্য ০.৪১ একর ও বাইরে ১.০৯ একর জমি বরাদ্দ করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করলেও কারাগারের পরিধি ও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। ১৯৮৪ সালে ফেনী জেলায় রূপান্তরিত হওয়ার পর উপ-কারাগারটি কোনো সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই ১৯৯৫ সালে জেলা কারাগার হিসেবে উন্নীত হয়।
 
এ কারাগারের লোকবল সম্পর্কে জেল সুপার মোঃ মজিবুর রহমান মজুমদার জানান, এখানে ডেপুটি জেলার ও সহকারী সার্জেনের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কারাগারটিতে পুরুষ কারারক্ষী ৩১ জন, মহিলা কারারক্ষী ৫ জন, ফার্মাসিষ্ট ১ জন ও কারা সহকারী ১ জন রয়েছে।
 
তিনি আরো জানান, বর্তমানে ধারণক্ষমতার চাইতে ছয় গুণ বেশি বন্দী থাকায় রাত-দিন পালাক্রমে বন্দীদেরকে ঘুমাতে হচ্ছে এবং বন্দীদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই। গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে বলে বন্দীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, বন্দীদের বিনোদনের জন্য টেলিভিশন, লুডু, ক্যারাম ও দাবা খেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
 
জেল সুপার আরো জানান, ফেনীর রানীর হাট এলাকায় নতুন কারাগারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে পরিস্থিতি বদলে যাবে।
 
অপর দিকে ফেনী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএম ফয়জুল ইসলাম জানান, কয়েদিদের সার্বিক অধিকার রক্ষার্থে ২০১২ সালে রানীর হাট এলাকায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে সাত একর জমির উপর ফেনী জেলার আধুনিক কারাগার নির্মিত হচ্ছে। এ কারাগারে তিনশ বন্দীর ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে সময়মত অর্থ বরাদ্দ পেলে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ হবে। বর্তমানে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর জেল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এএন