সমাজ পরিবর্তনের প্রয়াসে কাজ করা ১০টি তরুণ দলকে পুরস্কৃত করলো বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি)। রবিবার ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে এক অনুষ্ঠানে প্রত্যেক দলকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ইয়ুথ লিডারশিপ সামিটের পর ইউকেএইড এর সহযোগিতায় গত ২৪ এ আগস্ট বিওয়াইএলসি এই ‘বিওয়াইএলসি ইয়ুথ লিডারশিপ প্রাইজ’এর উদ্বোধন করে। এজন্য বিওয়াইএলসির বিভিন্ন লিডারশিপ প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে সব প্রকল্পের পরিকল্পনা আহ্বান করে।
বিওয়াইএলসি প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইজাজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশে মানসম্পন্ন নেতৃত্ব গুণাবলি সৃষ্টির পথে একটি উদ্যোগ হলো বিওয়াইএলসি ইয়ুথ লিডারশিপ প্রাইজ। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণে নেতৃত্ব চর্চার সঠিক গুণাবলী রয়েছে, দেশে পরিবর্তন আনতে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের শক্তি ও সামর্থকে আমরা তুলে ধরতে চাই মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই।’
একটি পর্যায়ক্রমিক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে দলগুলোকে মূল্যায়ন করা হয় তাদের প্রকল্পের সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব, প্রকল্পের অভিনবত্ব, প্রায়োগিক কৌশল এবং প্রকল্পের সাথে তাদের একাত্বতা দেখে। শেষ রাউন্ডে প্রতিযোগীররা তাদের আইডিয়া উপস্থাপন করে বিজ্ঞ বিচারক মন্ডলীর সামনে, এবং এর ভিত্তিতেই প্রকল্পের প্রভাব ও টেকসই কিনা- সেই বিচারে বাছাই করা হয় সেরা দশটি দলকে।
বিজয়ী দশটি দলের মধ্যে রয়েছে বরিশাল থেকে আসা গ্রিন পাওয়ার, যাদের লক্ষ্য হলো স্রোত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন বিদ্যুৎকে একটি বিকল্প উপায় হিসেবে ব্যবহার করা, কক্সবাজারের দল মেন্সট্রুয়াল হেলথ এন্ড হাইজিন ম্যানেজমেন্ট, যাদের স্বপ্ন ঋতুকালীন সময়ে মেয়েদের স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে স্কুলগুলোতে সচেতনতা সৃষ্টি, ময়মনসিংহের দল একুয়ালাইন, যারা কাজ করবে মাছের পরিপাকতন্ত্র ও বর্জ্য দিয়ে কীভাবে সামাজিক ব্যবসা করা যায় তা নিয়ে।
ঢাকার দল ওয়েস্ট ফ্রি বাংলাদেশ কাজ করবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অভ্যাস বদলে সামগ্রিকভাবে আবর্জনার পরিমাণকে কমিয়ে আনতে, এলএলসি ফর ড্রপআউটস দলটি ঝরে পরা শিক্ষার্থীদেরকে প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিয়ে তাদের জন্য চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে, গ্রাউন্ড জিরোর স্বপ্ন হলো শিশুদের যৌন হয়রানি বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা, ইউনিফাই এর লক্ষ্য হলো প্রতিভাবান ভলান্টিয়ারদদের সাথে এনজিও ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ করিয়ে দেয়া, ঝিংক দলটি পথশিশুদের শেখাবে আঁকা ও ডিজাইন করা, যা দিয়ে তারা নিজেরাই পণ্য তৈরি করে বিক্রি করতে পারে, আরোগ্য দলটি সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের জন্য একটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল এপ এর মাধ্যমে তহবিল গঠন করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিএফআইডি বাংলাদেশের পরিচালনা পরিষদের দলনেতা জোয়েল হার্ডিং বলেন, ‘এই তরুণরা সমাজে পরিবর্তন নিয়ে আসা এবং সমস্যা সমাধানের যে অঙ্গিকার করেছে তাতে তারা সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তারা প্রমাণ করেছে আসল নেতৃত্ব হল অন্যকেও তাদের কাজ করার জন্য একত্রিত করে এগিয়ে যাওয়া।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি, বেসরকারি এবং বেসামরিক খাতের সম্মানিত অতিথিদের সামনে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন বিওয়াইএলসি চেয়ারপার্সন আখতার মতিন চৌধুরী এফসিএ, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সা বার্নিকাট এবং জাতিসংঘের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াটকিন্স। যুক্তরাজ্যে দূতাবাসের রাজনৈতিক বিভাগের প্রধান এডরিয়ান জোন্স বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন।
ইত্তেফাক/এমএইচ
