বিচারক অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য রিটকারী পক্ষের আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি এই আবেদেনের ওপর শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
সোমবার রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডেভোকেট মনিঞ্জল মোরশেদ এই আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলার সঙ্গে সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয়টি জড়িত থাকায় হাইকোর্ট সরাসরি আপিলের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ অবধি রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করেনি। যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত সেজন্য হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপি দাখিল করা হলো। এটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দরকার।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জোনারেল মুরাদ রেজা এবং আবেদনকারীর পক্ষে মঞ্জিল মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গত ৫ মে সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর ২৯০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। মূল রায়ে বলা হয়েছে, “বলতে দ্বিধা নেই, ষোড়শ সংশোধনী একটি কালারেবল লেজিসলেশন (কোনো কাজ সংবিধানের মধ্যে থেকে করার সুযোগ না থাকলে আইনসভা যখন ছদ্ম আবরণে ভিন্ন প্রয়োজনের যুক্তি দেখিয়ে একটি আইন তৈরি করে), যা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নীতির লঙ্ঘন। এটা সংবিধানের দুটি মূল কাঠামো ৯৪(৪) ও ১৪৭(২) অনুচ্ছেদেরও লঙ্ঘন। একইসঙ্গে সংবিধানের ৭(বি) অনুচ্ছেদকেও আঘাত করে।
রায়ে বলা হয়, ষোড়শ সংশোধনী আইন-২০১৪ কালারেবল, এটি বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হল। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক মো. আশরাফুল কামাল অপর দুই বিচারপতির এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। বৃহত্তর বেঞ্চের এই রায়ের ফলে সংসদের হাতে বিচারক অপসারণ ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়। হাইকোর্টের এই রায় স্থগিতের জন্য পরদিন আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। যদিও ঐ আবেদনটি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা রয়েছে।
ইত্তেফাক/এএসএস
