বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গাজীপুরে আইনজীবী সমিতির হলরুমে জেএমবি’র আত্মঘাতী বোমা হামলার ১১তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে বোমা হামলায় শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মৃতি শিখা অনির্বাণ’ এ আইনজীবী সমিতি, গাজীপুর জজশীপ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও ম্যাজিস্ট্রেসির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে শহীদ আইনজীবীদের স্মরণে ও আহত আইনজীবীদের সুস্থতা কামনায় স্মরণসভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এনামুল হক।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. শহিদ উজ্জামানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ জায়েদ মনসুর, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফজলে এলাহী, জিপি আমজাদ হোসেন বাবুল, পিপি হারিছ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, বারের সাধারণ সম্পাদক মো. এমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন, ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুস ছোবহান, আব্দুস সাত্তার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর আইনজীবী সমিতির দুই নম্বর হল রুমে জেএমবির এক সদস্য আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। ওই হামলায় ছয় আইনজীবী, চার বিচারপ্রার্থী ও হামলাকারী নিহত হন। আহত হন অন্তত ৫০ জন। ওই ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার মধ্যে একটি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি দুটি ঢাকায় দ্রুত বিচার (বিশেষ) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ঘটনাস্থলে নিহতরা হলেন- জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিম, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা ও অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক অভি। এসময় মারা যান জেএমবি সদস্য শরিয়ত উল্লাহ ওরফে আসাদুল ইসলাম ছাড়াও বিচার প্রার্থী আব্দুর রউফ, বশির মেম্বার, শামসুল হক ও মর্জিনা বেগম। অন্যরা পরে মারা যান।
ইত্তেফাক/এমআই
