মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর সেদেশের সৈন্যরা ববর্রতা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বিচারে জবাই-গুলি করে হত্যা, ধর্ষণ, অব্যাহত রেখেছে। এসব নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে রোহিঙ্গারা গ্রাম ছেড়ে পাহাড়ে জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পাশাপশি রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে করছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ও ভোরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে হাজার খানেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে ৩ শতাধিক আশ্রয় নিয়েছে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। একাধিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ওপারের দালালের হাত ধরে শিশুসহ ৩০ মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে ঢুকে। তারা সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিবিরে এসে পৌছেন। এসময় কথা হয় হাসিনা বেগমের সঙ্গে। তখন তিনি কান্না করতে ছিল। তার বাড়ি মিয়ানমারের মংডু শহরের পুংদু গ্রামে।
হাসিনা বেগম বলেন- মিয়ানমারের সৈন্যরা আমার স্বমী মো. রফিককে জবাই করে হত্যা করেছে। ওরা আমাকে অপর এক নারী ছমিরা বেগম নামে এক নারীকে ধর্ষণ করেছিল। তারা আমাকেু জোরপূর্বক করে ধর্ষন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমি তাদের হাত পালিয়ে রক্ষা পায়। তারা এক সাথে শিশুসহ প্রায় ১৫ জনকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করেছে। এতে এ ববর্রতা এখনো থামেনি।
তাদের দলের মো. ইয়াছিন বাবাকে হারিয়ে প্রণে বেঁচে থাকতে ছোট বোন মোকারাম (৯) কে নিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। তাদের এখানে কোথাও আশ্রয় পাননি। ‘কোথাও আমাদের কোন নিজের দেশ নেই’ উল্লেখ করে আরও বলেন, আমাদের কোন দেশ নেই ঘরবাড়ি ও পরিবার ছেড়ে প্রাণ রক্ষার জন্য বাংলাদেশে চলে আসতে হল। এখানো কোথাও জায়গা হলোনা। সৈন্যরা কত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মেরে ফেলা হয়েছে তার কোন হিসাব নেই। অনেক পরিবারের লোকজন এখনো নিখোজঁ রয়েছে। এরপর তার বাবা রশিদ আহমেদ উপর নৃশংস, বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা জানতে চাইলে কেদেঁ ফেলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মিয়ানমারের সৈন্যরা সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জবাই, আগুনে পুড়িয়ে, গুলির, ও নারীদের ধর্ষণ-নির্যাতনে চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যেদিন যে পাড়ায় খুশি রাতের বেলা ঢুকে ঘরে আগুন দেয়।
এরপর গুলি করে, জবাই করে হত্যা করছে। তারা হত্যা করে মাটি ফুটে এক গর্তে ১০/২০ জনকে কবর দিচ্ছে তারা।
টেকনাফ লেদা ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। বেশিরভাগ রোহিঙ্গারা রাতে আধাঁরে কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছেন। তবে এখন সীমান্তে আরও বেশি নজরদারি বৃদ্ধি করায় উপকুল দিয়ে রোঙ্গিরা ঢুকছেন। তারা আরও জানান, টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে সোমবার ভোর ও সকালে প্রায় হাজার খানেক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এর আগে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতির পর থেকে প্রায় ১০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করেন তারা। তবে কি পরিমান রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ তার হিসাব টেকনাফের কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দীকি জানান, মঙ্গলবার ভোরে নাফ নদীর ৪টি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে রোহিঙ্গা বোঝাই ৬টি রোহিঙ্গা নৌকাকে বাঁদা প্রদান করা হয়েছে। এতে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে না পেরে মিয়ানমারে ফেরত যায়। যেসব পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা বেশি প্রবেশের চেষ্টা করছে সেসব পয়েন্টে বিজিবির সর্বোচ্চ নজরদারি আছে। পাশাপাশি সীমান্ত জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমএইচ
