ভরা মৌসুমেও আগৈলঝাড়ার শুঁটকি পল্লি¬র ব্যবসায়ীরা হতাশ

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০১:১৪

স্বাদু পানির দেশি প্রজাতির মত্স্য অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভরা মৌসুমেও শুঁটকি পল্লি­র জেলেদের মুখে হাসি নেই। ভরা মৌসুম সত্ত্বেও মাছের আকালের কারণে হতাশায় ভুগছেন এলাকার শুঁটকি পল্লি­র সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করা মত্স্যজীবী পরিবারগুলো।

 
এ অঞ্চলের মিঠা পানির নানা প্রজাতির শুঁটকি মাছ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট অঞ্চল ও ভারতের আগরতলা পর্যন্ত এখানকার শুঁটকি মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে আগের তুলনায় পুঁটি, দেশি সরপুঁটি, পাবদা, কৈ, শোল, রয়না, খলিশা, মাছসহ দেশি প্রজাতির অনেক মাছ এখন আর তেমন পাওয়া যায় না। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো অধিক লাভের আশায় বছরের আশ্বিন মাসের প্রথম থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ছয় মাস শুঁটকির কাজে নিয়োজিত থাকেন। তারা মাছ কিনে তার আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকিয়ে বিক্রির জন্য মজুদ রাখেন। সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে সিধঁল শুঁটকির। যার প্রধান ক্রেতা ঢাকা ও চট্টগ্রাম।  সৌখিন ক্রেতারা এ শুঁটকি পল্লি থেকেও তাদের চাহিদা অনুযায়ী কিনে নেন।
 
দেশি-বিদেশি পাইকাররা এসে এখান থেকে শুঁটকি মাছ কিনে নিয়ে যান। আবার ঢাকার কাওরান বাজার মোকামে গিয়েও বিক্রি করা হয়। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীই মহাজনের কাছ থেকে দাদন ও স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মাছের ব্যবসা করলেও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে গিয়ে ওই দাদন ও ঋণের টাকা পরিশোধ করে তাদের হাতে আর তেমন কোনো সম্বল থাকে না। মৌসুম শেষে তাদের জীবনে নেমে আসে হতাশা।
 
ওই পল্লি­­র মাছ কাটার কাজে নিয়োজিত রাজাপুর গ্রামের সন্ধ্যা অধিকারী, আয়না বেগম, পপি অধিকারী ও শোভা রানী জানান, বছরে ছয় মাস মাছ কাটার সঙ্গে নিয়োজিত থাকলেও বাকি ছয় মাস কাটে তাদের অনাহার-অর্ধাহারে। তারা বলেন, ছেলে-মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া করছে। মাছ কেটে যা আয় করি তা দিয়ে বহু কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বর্তমানে শুকনা মৌসুমের শুরুতে মাছ বেশি পাওয়া গেলেও কার্তিক মাসের পর বিলে মাছ কম থাকায় তাদের দুঃখ-দুর্দশা আরো বেড়ে যায়।
 
ইত্তেফাক/এএন