বাগেরহাটের ফকিরহাট দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চিংড়ি শিল্পে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত মৎস্য চাষী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা উৎপাদন হ্রাস পাওয়া এবং মাছের দাম কমে যাওয়ায় চরম বিপর্যয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এ উপজেলার দু’টি হিমায়িত মৎস্য রপ্তানিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, এ উপজেলার মানুষের উপার্জনের প্রধান উৎস কৃষি খামার ও মৎস্য চাষ। এবছর অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে এ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে কয়েক হাজার মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়ে বন্যায় রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে ঘেরের পানি পচে বিষক্রিয়ায় মৎস্য ঘেরে মড়ক লেগে ব্যাপক ক্ষতি হয়। নুতন করে মাছ চাষে গড়ে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইখতেখারুল আলম জানান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট গলদা চিংড়ি চাষ করা হচ্ছে ৫৯৯৬টি ঘেরে ২৬৪০.৪ হেক্টর ও বাগদা চিংড়ি ২৮৭২টি ঘেরে ১২৯১ হেক্টর জমিতে। মাছের দাম কমে যাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতায় মৎস্য চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষীরা। ফলতিতা মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী আকাশ বিশ্বাস ও চাষী পাইলট বাগচি জানান, হঠাৎ বাগদা ও গলদা চিংড়ির দাম গড়ে কেজি প্রতি ৩শ’ টাকা কমে গেছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাদে চাষী প্রতি কেজি মাছ প্রায় ১০০-১৫০টাকা লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে উপজেলায় অবস্থিত বৃহৎ ২টি হিমায়িত মৎস্য রপ্তানিকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক কর্মচারী বাদ দেওয়ায় এবং মাছ ক্রয় হ্রাষ পাওয়ায় এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ্যভাবে সম্পৃক্ত কয়েক হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।
বাগেরহাট সি ফুডের কর্মচারি লিটু দে বলেন, ৬জনের পরিবারে আমি ও আমার ছোট ভাইয়ের উপার্জনে সংসার চলে। মাছের দাম কমে যাওয়ায় কেনাবেচা কম হওয়া ও কম্পানি বন্ধ থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
ফলতিতা মৎস্য আড়ত সূত্র জানায়, প্রতিদিন এ আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫হাজার মেট্রিক টন সাদা মাছ ও চিংড়ি মাছ বেচাকেনা হয়। মাছের দাম কমে যাওয়ায় বর্তমানে তা তিনের এক অংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে মাছ কেনাবেচাসহ প্রক্রিয়াজাতকরণে সম্পৃক্ত প্রায় সহস্রাধিক মানুষ কষ্টে দিনযাপন করছে। এ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা উপজেলায় উৎপাদিত সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
ইত্তেফাক/এমআই
