পীরগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:৩৯

পীরগঞ্জের সহস্রাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাছী নদীর উপর নিজ উদ্যোগে নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশগাড়া গ্রামে  সাঁকোর বাঁশের পাটাতন ভেঙে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এরই মধ্যে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ব্রিজের সিমেন্টের পিলার নির্মাণ করা হয়েছে তবে অর্থাভাবে ব্রিজের কাজ থেমে আছে।

 
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীসহ সকল বয়সের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হচ্ছেন। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে তাঁরা জানান । তবে ঐ গ্রামের আবুল হাসেম নামে এক কৃষক এরই মধ্যে ব্যবসায়ীসহ এলাকার ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ৮০ হাজার টাকায় ৮টি পিলার নির্মাণ করেছেন ব্রিজের জন্য। তবে অর্থের অভাবে ব্রিজ নির্মাণ কাজের সমাপ্তি করতে পারছে না। এজন্য সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী। সাঁকো দিয়ে চলাচল করা গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই সাঁকো নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে। এ ছাড়াও কৃষকরা পণ্য নিয়ে এই পথে বাজারে যান। সবাই খুব ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হচ্ছেন। মোহাম্মদ হেলাল নামের এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে ২য় শ্রেণিতে পড়ে। এই সাঁকো পার হয়ে তাঁকে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। সাঁকোটার অবস্থা এখন খুব খারাপ। এজন্য ছেলে এখন একা একা সাঁকো পার হতে ভয় পায়। সাজু, গফুরসহ ওই গ্রামের আরো কয়েকজন বাসিন্দা একই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ব্রিজের পিলার নির্মাণ হয়েছে। বাকি কাজটা যদি সরকারিভাবে করে দেওয়া হয় তবে ঝুঁকি নিয়ে আর সাঁকো পার হতে হবে না। ৪র্থ শ্রেণি পড়ুয়া বন্যা আকতার বলে, আমার এই সাঁকো পার হতে খুব ভয় হয়। সাঁকোটার মাঝখানে ভেঙে গেছে। কিছুদিন আগে পার হওয়ার সময় আমার এক বন্ধু সাঁকো থেকে নদীতে পড়ে যায়। ব্রিজ হলে আমাদের ছোটদের চলাচলে খুব ভালো হবে।
 
ইলিয়াস, নুপুর ও আকতারসহ আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, সাঁকোর উপর উঠলেই কাঁপতে থাকে তাদের শরীর। অনেক সময় বড়রা তাদের এই সাঁকো পার করে দেন বলে জানায় তারা। আর ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোক্তা আবুল হাসেম বলেন, একদিন আমার চোখের সামনেই এক স্কুল শিক্ষার্থী এ সাঁকোর নীচে নদীতে পড়ে যায়। আমি তখন ওই শিক্ষার্থীকে নদীর পানি থেকে উদ্ধার করি। হাসেম বলেন, এলাকার ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিয়ে ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেই। পিলার করেছি এখন বাকিটা যদি সরকারি সহযোগিতায় শেষ করা হয় তবে এ গ্রামের মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে।
 
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, বিষয়টি অবগত আছি। উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করে শিঘ্রই ব্রিজটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 

ইত্তেফাক/এএন