সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

পৃথিবী জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস, দারিদ্র্য, লিঙ্গ বৈষম্য, জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। এসব সমস্যাকে মানুষের সামনে তুলে ধরা ও তার সমাধানের পথ চলচ্চিত্রে তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ দারিদ্র্য, বিচারহীনতা, সন্ত্রাসের কবল থেকে রাষ্ট্র ও মানুষকে মুক্ত করার চেষ্টায় কাজ করছে। চলচ্চিত্রে এসব বিষয় তুলে আনতে হবে। শুধু বিনোদনমুখী না হয়ে জনসচেতনতামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে শুরু হলো ১৪তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উত্সব।

 
‘মুক্ত চলচ্চিত্র’ মুক্ত প্রকাশ’ এ শ্লোগান নিয়ে গতকাল শনিবার বিকালে আটদিনের উত্সবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও চীনা চলচ্চিত্রকার বেইজিং ফিল্ম একাডেমির অধ্যাপক ড. শি ফির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্সব কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ইউসুফ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক জাকির হোসেন রাজু। উদ্বোধনী পর্বে এবার হীরালাল সেন স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয় চিত্রগ্রাহক আফজাল এইচ চৌধুরীকে। এর আগে গ্রন্থাগারের উন্মুক্ত চত্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও বেলুন উড়িয়ে উত্সবের উদ্বোধন করা হয়।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাঙালি সমাজ সংস্কৃতিমনস্ক সমাজ। এ ধরনের উত্সবে মানুষের সাড়া দেখে খুব ভাল লাগে।
 
হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা জঙ্গি দমনের যুদ্ধের মুখোমুখি। চলচ্চিত্র একধরনের  আন্দোলন। যা আমাদের মানবিক সমাজ গঠনে পথ দেখায়। আমার প্রত্যাশা এ ধরনের উত্সব দর্শকদের জঙ্গিবাদ বিরোধী, দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনে পথ দেখাবে।
 
নাসিরউদ্দীন ইউসুফ একটি ফিল্ম সেন্টার নির্মাণের দাবি জানান। যেখানে স্বাধীনভাবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। অনেক হল থাকলে সেখানে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। মুক্ত চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্র সৃষ্টিতে এরকম একটি উন্মুক্ত প্রদর্শনক্ষেত্র থাকা জরুরি। এছাড়া তিনি প্রতিবছর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ১০টি চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান। দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলে সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট সময় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।
 
হীরালাল সেন স্মারক সম্মাননা পেয়ে আফজাল এইচ চৌধুরী বললেন, দেশের প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবিটি আমার তৈরি। জহির রায়হানের সঙ্গে ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু সরকার আমাকে কোন স্বীকৃতি-সম্মাননা দেয়নি।
 
গতকাল প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছেঃ রাশিয়ার চলচ্চিত্র ‘আই ক্লোজ মাই আইজ’, যুক্তরাষ্ট্রের বব ডিলান হেটস মি, জার্মানির ইটারনিটি ও ওল্ড ম্যান এন্ড দ্য বার্ডস ও কানাডার মাই এনিমি ‘মাই ব্রাদার।’ আজ রবিবার দেখানো হবে ৫০টি চলচ্চিত্র।
 
এবারের উত্সবে ভেন্যু ৬টি। জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন ছাড়াও জাতীয়  জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও সুফিয়া কামালের মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন এবং বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে উত্সবের চলচ্চিত্রগুলো। এছাড়া উত্সব চলাকালীন সময়ে ৩-৬ ডিসেম্বর রাজশাহীর লালন মঞ্চ ও বড়কুঠি মঞ্চে  চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এবারের আসরে ১০৯টি দেশ থেকে ২৫৬৭টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। উত্সবে প্রদর্শনের জন্য ৫০০টি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়াও উত্সবে অস্কার, কান, সানডান্স, টিফ, ওবারহাওজেন, বার্লিন, লোকারনো, বুসানের মতো আলোচিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের বেশ কটি নির্বাচিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএন