সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ৬০ ভাগ বৃদ্ধির পরও এই সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। রাজধানীতে অটোরিকশা চালকদের যাত্রী-হয়রানি ও ভাড়া নৌরাজ্য সীমাহীন আকার ধারণ করেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চুক্তিতে চলে ৮৬ ভাগ ও বকশিশ দাবি করে ৯৭ ভাগ অটোরিকশা চালক। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির ১৫ সদস্যের একটি টিম গত একমাস রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিংহভাগ অটোরিকশা যাত্রীর পছন্দের গন্তব্যে যায় না, মিটারে চলে না, মিটারে গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে, যাত্রীর সঙ্গে অস্বাভাবিক দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগের মধ্যে সরকার এই সেক্টরকে সুশৃঙ্খলিত করতে বার বার নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
পর্যবেক্ষণে আরো জানা গেছে, প্রতিটি অটোরিকশা সরকার নির্ধারিত জমা ৯০০ টাকা হলেও সিংহভাগ মালিক এক হাতে বা এক চালক দিয়ে দৈনিক ১০৫০ টাকা এবং দুই শিফটে বা দুই জন চালক দিয়ে দুই বেলায় দৈনিক ১৪০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত জমা আদায় করছে। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে এসব অটোরিকশা যাত্রী উঠাতে ১০/২০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয় বলে পর্যবেক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেছে চালকরা।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে চলাচলকারী অটোরিকশা চালকের প্রায়ই ৬২ ভাগের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও ২২ ভাগ চালক ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে থাকে। তবে ১৬ ভাগ চালকের হাতে বৈধ বা অবৈধ কোনো লাইসেন্স নেই।
এ সমস্যা থেকে উত্তরণের ব্যাপারে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঢাকা মহানগরীর অটোরিকশা সংকট নিরসনকল্পে সিএনজি অটোরিকশা সিলিং প্রথা বাতিল করা, প্রতিটি অটোরিকশা যাত্রীর আসনের সামনে ভাড়ার তালিকাসহ মালিক, চালক, বিআরটিএ’র অভিযোগ কেন্দ্র, পুলিশের ট্রাফিক অভিযোগ কেন্দ্রের নাম ও ফোন নম্বরসহ একটি নোটিস ঝুলানোর ব্যবস্থা করা, ঢাকা মহানগরীর বাইরের জেলায় নিবন্ধিত ও প্রাইভেট অটোরিকশাসমূহ নগরীতে চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া, সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া, জমা ও ইকনোমিক লাইফ বৃদ্ধির পূর্বে গণশুনানির উদ্যোগ নেওয়া এবং যাত্রীস্বার্থ সুরক্ষায় মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি রাখা, সিএনজি অটোরিকশার পুনঃনির্ধারিত ভাড়া কার্যকরকরণ সংক্রান্ত বিআরটিএ গঠিত মনিটরিং কমিটিতে যাত্রী অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা, অটোরিকশার নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি ট্রাফিক ইন্সপেক্টরদের নেতৃত্বে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা এবং মিটার টেম্পারিং বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মিটার চেকিং এর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
ইত্তেফাক/এএন
