মুক্তিযোদ্ধার নাতনী শাপলা নিখোঁজের ৩ মাসেও সন্ধান মেলেনি

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ১০:০৮

নাইমা সুলতানা ওরফে শাপলা (৩২) নামের এক গৃহবধু গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বামীর ভাড়া বাসা থেকে রহস্যজনক নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের প্রায় ৯০ দিন গত হতে চললো। অদ্যবধি তার হদিস মেলেনি।

 
নিখোঁজ শাপলা মিরপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড দারুস সালাম পাড়ার আবুল কালাম আজাদ মোঃ ফরহাদ ওরফে বাবুল মালিথার মেয়ে এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার নজির উদ্দিনের নাতনী। নিখোঁজের পর সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে শাপলার পিতা ১২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর থানায় ১টি সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী নং -৫৫৪।
 
পরবর্তীতে একই থানায় ৯ অক্টোবর শাপলার পিতা বাদী হয়ে শাপলার স্বামী মুক্তার হোসেন (৪২), শ্বাশুড়ী আনোয়ারা বেওয়া (৬৫)সহ ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। কিন্তু অদ্যবধি পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
 
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আশরাফুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হলেও আসামীরা গাঁ ঢাকা দেয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
 
জানা যায়, ২০১২ সালের ২৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড দারুস সালাম পাড়ার আবুল কালাম আজাদ মোঃ ফরহাদ ওরফে বাবুল মালিথার মেয়ে নাইমা সুলতানা শাপলার সঙ্গে কুষ্টিয়া সদর থানার হরিসংকরপুর গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর ছেলে মুক্তার হোসেনের সাথে বিবাহ হয়। বিয়ের পর কিছুদিন যেতে না যেতে স্বামী মুক্তার হোসেন ও শ্বশুর বাড়ীর লোকজন শাপলাকে বাবার বাড়ী থেকে ২ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। এ নিয়ে প্রায়ই শাপলা স্বামীর হাতে নির্মম শারিরীক নির্যাতনের শিকার হতো।
 
সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর ঈদুল আযহার আগে বাবার বাড়ী থেকে শাপলাকে ১০ হাজার টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে নিরূপায় শাপলা বাবার আর্থিক অবস্থা জ্ঞাত থাকায়, মামার বাড়ী গাংনীতে যায় এবং ১০ হাজার টাকা চায়। মামা টাকা দিতে অপারগতা জানালে শাপলা শুন্য হাতে গাংনী থেকে স্বামীর বাড়ী ফিরে আসে। তারপর থেকেই শাপলা নিখোঁজ।
 
নিখোঁজ শাপলার ভাগ্যে আসলেই কি ঘটেছে তা এখন নির্ভর করছে পুলিশের সুষ্ঠ তদন্তের ওপর।
ইত্তেফাক/এএন