ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর ছয়বারের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জয়ললিতা জয়রাম । তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল সোমবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তাঁর অন্যতম বড় পরিচয় ছিল তিনি অভিনেত্রী হিসেবে প্রায় ২০ বছর কাজ করেছেন।
রাজনীতির টানে, দলের চাপে শোবিজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এক সময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। কিভাবে এসেছিলেন মিডিয়ায়, কী কী কাজ করেছেন আর কেনই বা ছেড়েছিলেন একটু জেনে নেয়া যাক।
২৪শে ফেব্রুয়ারি মাইসোরের মেলুকোটে তামিল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম হয় জয়ললিতার। তারা বাবা জয়রমন এবং মা ভেদাভাল্লি।
IMG0
মাত্র তিন বছর বয়স থেকে ভরতনাট্যমে তালিম নিয়েছিলেন তিনি৷ স্কুল-টপার ছিলেন জয়ললিতা৷ দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় জিতেছিলেন গোল্ড স্টেট অ্যাওয়ার্ডও৷ ১৯৬১ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। এপিস্টল নামে একটি ইংরেজি ছবিতে প্রথম শুটিং শুরু করেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে মায়ের জোরাজুরিতে সিনেমায় নামতে বাধ্য হন৷ নিজের প্রথম ছবি নিজেই দেখতে পাননি জয়ললিতা৷ কারণ তা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ছিল৷ তিনিই প্রথম তামিল অভিনেত্রী হিসেবে স্লিভলেস ব্লাউজ পরে সিনেমার পর্দায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন৷
সিনেমায় অভিনয় করাকালীন বিবাহিত অভিনেতা শোবান বাবুর প্রেমে পড়েন৷ কিন্তু দু’জনে কখনও বিয়ে করেননি৷ শোনা যায় জয়ললিতাকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসেন অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ এমজিআর৷ তবে জয়ললিতা স্বয়ং এই তথ্য নাকচ করেছেন।
IMG1
১৯৬৪ সালে কন্নড় ছবি ‘চিন্নাদা গোম্বে’তে প্রথম মুখ্যচরিত্রে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৬৫ সালে তামিল ছবি ‘ভেন্নিরা আদাই’-তে প্রথম মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করেন জয়ললিতা। একই বছরে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পরবর্তীকালে জয়ললিতার রাজনৈতিক গুরু এম জি রামচন্দ্রনের বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন। এরপর জয়ললিতা-রামচন্দ্রনের দু’যুগের রঙীন সম্পর্কের সূচনা হয়।
অভিনয় জীবন ১৯৬১ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট ১৪০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন জয়ললিতা। তামিল সিনেমার অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। তামিল ছাড়াও তেলুগু কন্নড় সিনেমায় তিনি সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি নৃত্যশিল্পী হিসাবেও অসম্ভব দক্ষ ছিলেন। জয়াকে তামিল সিনেমার 'কুইন' বলেও ডাকা হয়।
IMG2
১৯৭৩ সালে একসঙ্গে ২৮টি ছবিতে অভিনয় করার পরে পার্টি কর্মীদের চাপে এমজিআর জয়ললিতার সঙ্গে অভিনয় করা বন্ধ করে দিলেন। ১৯৮২ সালে রাজনীতির জগতে প্রবেশ করেন। শোবিজ নিয়ে এরপর আর পিছনে ফিরে তাকানোর সময় পাননি জয়ললিতা। তবে সিনেমা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিলেও এখানে দেখিয়েছেন তার যোগ্যতা, পারদর্শিতা।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের চলচ্চিত্রের নায়কদের রাজনীতিতে আসার উদাহরণ আছে। কিন্তু সিনেমার নায়িকারা যে রাজনীতিতে এসে সফল হতে পারে, জয়াললিতা তার উদাহরণ। পেয়েছেন আমজনতার ‘আম্মা’ খেতাব। যেমন ছয়বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তেমনি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন ছয়বার।
ইত্তেফাক/এমএআর
