মাত্রাতিরিক্ত পাথর ও অন্যান্য মাল বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় বড়বাড়ী-লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের ১২ কি.মি সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে।
এই মহাসড়কের বড়বাড়ী থেকে মহেন্দ্রনগর এবং নামুড়ী বাজার থেকে ভুল্লারহাট পর্যন্ত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত মহেন্দ্রনগর বড়বাড়ী মহাসড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বিকল্প হিসেবে এলজিইডি নিমার্ণাধীন ৫ কি.মি মহেন্দ্রনগর-মোস্তফীহাট রাস্তা ব্যবহারের ফলে ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া বিকল্প হিসেবে এলজিইডি নির্মিত ১২টি ফিডার রোড দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলের ফলে এ সকল রাস্তাও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বড়বাড়ী-লালমনিরহাট-বুড়িমারী ১০৫ কি.মি মহাসড়ক দিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর মাধ্যমে আমদানী পাথরসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহন করা হয়। ৮০’র দশকে নির্মিত সড়কটি মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহার হলেও এটি জেলা সড়কের আদলেও নির্মাণ হয়নি। এ সড়ক দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ টন মালামাল পরিবহন করা যেতে পারে। কিন্তু বুড়িমারী থেকে ৪০ থেকে ৫০ টন পাথর বোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কটি সংস্কার করা হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। তাছাড়া এ সড়ক পথে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি পুনঃনির্মাণ না করে অপরিকল্পিতভাবে সংস্কার করায় প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।
এদিকে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল বন্ধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকর করতে পারছে না। এক যুগের অধিক সময় আগে বুড়িমাড়ী স্থল বন্দরে ওয়েমেন্ট ব্রিজ চালু করা হলেও তা দু’মাস পরে বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পাটগ্রামে সড়ক পথে ওয়েমেন্ট ব্রিজটি পাঁচ/সাত বছর পরেও চালু করা যায়নি। ফলে অবাধে মাত্রাতিরিক্ত পাথর ও অন্যান্য মালামাল বোঝাই ট্রাক চলাচল করেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩ কি.মি সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৩১ কি.মিটারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ১২ কি.মিটারের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। তিনি জানান, এ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ইত্তেফাক/এএন
