জয়ললিতা সম্পর্কে ১৫ চমকপ্রদ তথ্য

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ১০:৩২
 
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান এবং প্রভাবশালী নাম জয়ারাম জয়ললিতা। সাধারণ মানুষের কাছে যিনি ‘আম্মা’ নামেই পরিচিত ও সমাদৃত ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে তামিলনাড়ুতে। তার জীবন নিয়ে মানুষের মনে জিজ্ঞাসার অন্ত নেই। জয়ললিতার জীবনের ১৫টি চমকপ্রদ তথ্য এক ঝলকে জানা যাক:
 
১. জয়ললিতার মাও স্থানীয় নাট্য দল এবং তামিল ছবির অভিনেত্রী ছিলেন। মাকে অনুসরণ করেই তার চলচ্চিত্র জগতে আত্মপ্রকাশ। শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করলেও মাত্র ১৫ বছর বয়সে কানাড়া ছবি চিন্নাডা গোম্বেতে তিনি নায়িকা হিসেবে কাজ করেন। ছবিটি সুপার ডুপারহিট হয়। 
 
২. শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ছাড়াও পাশ্চাত্য শাস্ত্রীয় পিয়ানো, ভরতনাট্যম, মোহিনীআট্যম, মণিপুরী এবং কত্থক নৃত্যের তালিম নিয়েছিলেন জয়ললিতা। 
 
৩. জয়ললিতার আরও একটি পরিচয় আছে। তাকে পুরাতচি থালাইভা নামেও অনেকে ডাকতেন, তবে নিকট আত্মীয় এবং সহ-অভিনেতারা তাকে ‘আম্মা’ নামেই ডাকতেন। 
 
৪. আইরাথিল ওরুভান ছবিতে তিনি কাজ করেন তামিলনাড়ু অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম জি রামচন্দ্রণের বিপরীতে। 
 
৫. ১৯৬৮ সালে বলিউডের সুপারস্টার ধর্মেন্দ্রের বিপরীতে তাকে দেখা যায় হিন্দি ছবি ইজ্জত-এ। 
 
৬. ১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি তার অভিনয় জীবনের শিখরে থাকেন। অভিনেত্রী হিসেবে তার পারিশ্রমিক ছিল সেই সময়ে ভারতের সর্বোচ্চ। তিনি ১৪০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এবং তার মধ্যে ১২০টি ছবিই ছিল ব্লকবাস্টার হিট। 
 
৭. তিনি যে ছবিতে অভিনয় করতেন তার কাহিনী সব সময়েই নারী কেন্দ্রিক হত এবং সহ-অভিনেতার থেকে তারই প্রাধ্যন্য থাকত পর্দা জুড়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাতে কোনও অভিনেতাই আপত্তি তুলতেন না ।
 
৮. এম জি রামাচন্দ্রনের সঙ্গে বহু ছবিতে অভিনয় করেছিলেন জয়ললিতা। সেই থেকে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। ততামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আম্মাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন এমজিআর। ১৯৮২ সালে যোগদান করেন এআইএডিএমকে পার্টিতে। পরের বছর তাকে পার্টির প্রোপাগান্ডা সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়। 
 
৯. ইংরেজি ছাড়াও আরও বহু ভাষায় পারদর্শী ছিলেন জয়ললিতা। 
 
১০. ১৯৮৭ সালে এমজিআর-এর মৃত্যুর পরে পার্টির দায়িত্ব কার হাতে যাবে তা নিয়ে শুরু হয় বচসা। একদিকে ছিলেন এমজিআর-এর স্ত্রী জানকী, অন্যদিকে জয়ললিতা। দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায় দল। 
 
১১. ১৯৮৯ সালে বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে আসেন জয়ললিতা। তিনিই ছিলেন তামিলনাড়ুর প্রথম বিরোধী মহিলা নেত্রী। একই বছরে ফের একীভূত হয়ে এআইএডিএমকে পার্টি। সবাই মেনে নেন জয়ললিতার নেতৃত্ব। 
 
১২. ১৯৯১ সালে তামিলনাড়ুর প্রথম এবং সর্বকনিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন জয়ললিতা। 
 
১৩. পালিত ছেলে সুধাগরনের বিয়েতে তিনি খরচ করেন ১০ কোটি টাকা। আমন্ত্রিত ছিলেন দেড় লাখের বেশি অতিথি। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠে তার। 
 
১৪. এই বিলাসবহুল বিয়ের প্রভাব অবশ্য পড়েছিল ১৯৯৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। হারতে হয়েছিল জয়ললিতাকে। 
 
১৫. কথিত আছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বেতন নিতেন মাত্র ১ রুপি।
 
ইত্তেফাক/আরএ