রোহিঙ্গাদের নির্যাতনকে গণহত্যা না বলার আহ্বান কফি আনানের

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৭:১৩
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সরকার পরিচালিত সহিংসতাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ সফরের পরে তিনি বিবিসিকে এ কথা বলেন।
 
গত অক্টোবরের শুরুতে ‘সমন্বিত জঙ্গি হামলায়’ ৯ জন মিয়ানমারের সীমান্ত পুলিশ নিহত হওয়ার পরে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিগত দুই মাসে ২১ হাজার ৯০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গারা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ধর্ষণ, বাড়িঘর লুটপাট, হত্যার অভিযোগ করেছে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। তবে মিয়ানমার সরকার বরাবরের মতো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 
 
IMG2
 
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক রবিবার দাবি করেন, রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা পরিচালিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধানও দাবি করেছিলেন, রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের চেষ্টা করছে মিয়ানমার। তবে কফি আনান বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর পরিচালিত আগ্রাসনকে গণহত্যা বলা যাবে না। তিনি বলেন, আমি মনে করে সেখানে উত্তেজনা রয়েছে এবং লড়াই হয়েছে। কিন্তু আমি অন্যদের মতো এটিকে গণহত্যা বলতে চাইবো না।
 
IMG0
 
গত আগস্টে রোহিঙ্গা প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়টি তদন্তে গঠিত একটি কমিশনের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য কফি আনানকে আহ্বান করেন অং সান সু কি।
 
রাখাইন সফর করে এসে তিনি বিবিসিকে বলেন, সেখানে গেলেই বুঝতে পারবেন দুই সম্প্রদায়ই ভীত। পরস্পরের প্রতি ভয় ও অবিশ্বাস কাজ করছে। ভয়ের মাত্রাটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে কিন্তু আমাদের এই বিষয়টি মোকাবেলা করে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সংযোগ সেতু তৈরি করতে হবে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার পর্যবেক্ষকদের গণহত্যা শব্দটি ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 
 
IMG1
 
রোহিঙ্গা ইস্যুতে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু কি বৈশ্বিক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে কফি আনান সু কির সরকারকে আরো বেশি সময় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ