তিন যুবলীগ নেতাকর্মী হত্যায় মামলা, আসামি অজ্ঞাত ১৫

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৬:২০
 
নাটোরের তিন যুবলীগ নেতাকর্মীর লাশ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উদ্ধারের ঘটনায় বিশেষ বাহিনীর অজ্ঞাত ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। নিহত তিনজনের মধ্যে নাটোর শহরের কানাইখালী এলাকার রেদোয়ান সব্বিরের মা রুখসানা বেগম বাদী হয়ে এ মামলটি দায়ের করেন।
 
মামলার আর্জিতে বলা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর শনিবার রাত আটটার দিকে তার ছেলে রেদোয়ান সাব্বির ব্যবসায়িক কাজে নাটোর সদর থানার কাফুড়িয়া তোকিয়া বাজারে যায়। সেখানে জনৈক মান্নান মিয়ার চায়ের দোকানে তার ছেলে ঐ দুই বন্ধু নাটোর কানাইখালী এলাকার হাফেজ মাওলানা লুত্ফর রহমান লুতুর ছেলে মো. আব্দুল্লাহ এবং কালুর মোড় এলাকার কালু ব্যাপারীর ছেলে সোহেল রানাকে নিয়ে চা পান করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুইটি মাইক্রোবাসে অজ্ঞাত ১৫ থেকে ১৬ জন সাদা পোশাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী র্যাব পরিচয় দিয়ে আমার ছেলে রেদোয়ান সাব্বির ও তার দুই বন্ধু মো. আব্দুল্লাহ এবং সোহেল রানাকে অতর্কিত লাঠি দিয়ে মারধর করে অপহরণ করে দু’টি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে রাজশাহীর দিকে চলে যায়। এ সময় তোকিয়া বাজারের নৈশ্য প্রহরী মো. আব্দুল জব্বার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার ও নৈশ্য প্রহরী আব্দুল লতিফসহ অনেকেই এই ঘটনা দেখেছেন বলে আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নাটোর থানায় একটি জিডি করা হয়। পরে ৫ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১০টার দিকে তিনি থানার মাধ্যমে জানতে পারেন যে তার ছেলে রেদোয়ান সাব্বির ও তার দুই বন্ধু মো. আব্দুল্লাহ ও সোহেল রানার গুলিবিদ্ধ লাশ দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটের কলাপাড়া এলাকার একটি বাগানে ফেলে রাখা আছে। খবর পেয়ে তার দেবর মুক্তা, আব্দুল্লাহ’র ছোট আহম্মদ উল্লাহ, সোহেলের খালাতো ভাই হাসান ও চুন্নু এবং আলম কমিশনার ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সনাক্ত করে নাটোরে নিয়ে আসে।
 
আর্জিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বা র্যাবের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারী বা সন্ত্রাসী নিহত হলে তার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয় কিন্তু তার ছেলে সহ তিনজনকে বন্দুক যুদ্ধে হত্যা করার কোনো খবরও প্রচার করা হয়নি। আর্জিতে দাবি করা হয়, প্রশিক্ষিত কোনো শক্তিশালী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তোকিয়া বাজার থেকে ঘোড়াঘাট পর্যন্ত কোনো জায়গায় পরিকল্পিতভাবে তাদের গুলি করে হত্যার পর লাশ ফেলে রাখা হয়। এই নির্মম ও নিষ্ঠুর হত্যার বিচার চেয়ে নাটোর থানায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এজাহার করা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান তা পেনাল কোডে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন।
 
নিহত মোঃ আব্দুল্লাহ (২৭) বাংলা টাইমস-২৪ এর নির্বাহী সম্পাদক, রেদোয়ান সাব্বির (২২) পৌর যুবলীগ নেতা ও সোহেল রানা (২৫) যুবলীগ কর্মী।
 

ইত্তেফাক/এএম।