সুনামগঞ্জের হাসাউড়ায় ৬শ’ পরিবার পান করছে কুয়ার পানি!

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ০৪:০৩

মাটিতে গর্ত  খুঁড়ে ১৫ হাত গভীর থেকে বাকেট টেনে পানি তুলে কুয়ার(ইন্দারা) পানি ব্যবহার করে আসছেন হাসাউড়া গ্রামের লোকজন। সংসারে রান্নার কাজে এবং খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করছেন এই পানি। যুগ যুগ ধরে কুয়ার পানি ব্যবহার করে জীবনধারণ করে আসছেন তারা।

 
জেলায় ফলজ বাগের ঐতিহ্যবাহী এলাকা সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হাসাউড়া গ্রাম। এই গ্রামে ৬শ পরিবারের বসবাস। গ্রামে কৃষিজীবী, চাকরিজীবী, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজে পড়ুয়া অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছেন। যুগ যুগ ধরে নিরাপদ পানির সংকটে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন তারা। নিজেদের পানির চাহিদা মেটাতে স্থাপন করেছেন ৪০টি কুয়াসহ প্রায় তিনটি নলকূপ। যারা নলকূপ বা কুয়া স্থাপন করতে পারেননি, তারা ডোবার পানি ব্যবহার করছেন।
 
পানি সংকট মেটাতে মাটি খুঁড়ে কুয়া খনন করেছেন এলাকার হান্নান মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল মনাফ, ইদ্রিছ মিয়া, দুদু মিয়া, খুর্শিদ মিয়া, বারিক মিয়া, উস্তার আলী, বিলাল মিয়া, বাছিত মিয়া, শওকত আলীসহ আরও অনেকে। এলাকাবাসী জানায়, কোনো  কোনো কুয়ার পানি দুর্গন্ধ। তবুও পান করতে হয়। কেউ কেউ অনেক দূরে গিয়ে নলকূপের পানি আনেন। নলকূপের পানিতেও আয়রণ বেশি। গ্রামের ফজর আলী একটি নলকূপ স্থাপন করেছেন নিজের টাকায়। ওই নলকূপের পানিও আয়রণযুক্ত। এলাকাবাসী পানি সংকট নিরসনে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শরণাপন্ন হয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
 
রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরব আলী বলেন, আমার এলাকায় অনেক পরিবার টাকার অভাবে নিজেদের উদ্যোগে নলকূপ স্থাপন করতে পারেননি। সরকারিভাবেও নলকূপ পান না। তাই হাসাউড়া কুয়ার পানি খেয়ে জীবনধারণ করছেন।

ইত্তেফাক/এএন