দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দু’টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার কিনে এনেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। গতকাল শুক্রবার সকালে ৩৩ লাখ টাকায় বিদেশ থেকে আমদানি করা বাঘ দুটি চিড়িয়াখানায় অবমুক্ত করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় বাণিজ্যিকভাবে বাঘ প্রতিপালন ও প্রজননের অনুমতি আছে। তাদের অভিজ্ঞতা আছে এ ব্যাপারে। সারা বিশ্বে তারা বাঘ রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করেছে।’
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, যে দুটি বাঘ-বাঘিনী আনা হয়েছে সেগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম ‘প্যানথার টাইগ্রিস’। বাঘের বয়স ১১ মাস, বাঘিনীর বয়স ৯ মাস। দুটি কাঠের বাক্সসহ তাদের ওজন ৪২০ কেজি। তাদের শারীরিক অবস্থাও বেশ ভালো। এগুলোর গড় আয়ু ১৪-১৫ বছর।’ বাঘ আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে বাঘ ধরা অসম্ভব। অন্য কোনো চিড়িয়াখানা থেকেও সংগ্রহ করা যায়নি। তাই দরপত্রের মাধ্যমে চার বছর বাঘশূন্য থাকা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার জন্য বাঘ আমদানি করতে হয়েছে।’
IMG0
চিড়িয়াখানা সূত্র জানায়, বাঘ দুটি আফ্রিকা থেকে বিমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। সেখান থেকে সড়কপথে গাড়িতে চাপিয়ে চট্টগ্রাম আনা হয়। গতকাল সকালে বাঘ দেখতে কৌতূহলী দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানায় ভিড় জমায়। ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ২০০৩ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে দুটি বাঘ আনা হয়েছিল। ২০০৬ সালে বাঘ ‘চন্দ্র’ মারা যায়। ২০০৯ সালে তার সঙ্গী ‘পূর্ণিমার’ ক্যান্সার ধরা পড়ে। ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর পূর্ণিমাও মারা গেলে গত চার বছর বাঘশূন্য অবস্থায় ছিল এই চিড়িয়াখানা।
ইত্তেফাক/আরএ
