রাণীনগরে কৃষি জমি থেকে অবাধে কাটা হচ্ছে মাটি, নষ্ট হচ্ছে ফসলের জমি

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৩:০৫
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রায় ১০ ইট ভাটার মালিক ফসলি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছে। কৃষি জমি থেকে মাটি খননের কারণে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে মাঠে মাঠে জমির উর্বর শক্তি আর জীববৈচিত্র।
 
বর্ষাকালে উম্মুক্ত ধানী জমিগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও সেখানে আমন ও উঁচু জমিতে ইরি-বোরো ধান হয় বছর জুড়ে। নিন্মাঞ্চলের জলরাশিতে পাওয়া যেতো দেশি প্রজাতির নানা রকমের সুস্বাদু মাছ। কিন্তু ইট ভাটার মালিকদের ফসলী জমি থেকে স্কেবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কারণে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে নদী-নালা খাল-বিল বাদে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর ফসলী জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ধরণের ফসল চাষ করে কৃষকরা। এক শ্রেণীর কৃষকরা ভাটা মালিকদের লোভে পড়ে প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) মাটি পাঁচ শ থেকে ছয় শ  টাকায় বিক্রয় করছেন। যে কারণে ওইসব জমিতে না হচ্ছে ধান না হচ্ছে মাছের চাষ। জমি গুলো দেখে মনে হচ্ছে এ যেন উম্মুক্ত জলাশয়। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে আবাদি কৃষি জমি থেকে মাটি খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। অন্য দিকে উর্বর শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে হ্রাস পাচ্ছে।
 
প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক্টর মাটি কেটে ভাটায় পৌঁছে দেয়ার কাজে ব্যস্ত। বিশেষ করে উপজেলার দুর্গাপুর, কাশিমপুর, চকাদিন, নগর বালুর ঠিকি, রামরায়পুর, মন্ডলেরপুল ও খট্টেশ্বর হাদিপাড়া এলাকায় কৃষি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট ভাটার মালিকরা ইট তৈরি কাজে ব্যবহার করছে। এর মাত্রা আগামীতে বাড়তে থাকলে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের আশঙ্কা।
 
কুজাইল গ্রামের ট্রাক্টর ও মাটি ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রতি বছর ইট ভাটায় চুক্তিভিত্তিক গাড়ি প্রতি  সাত শ টাকা দরে মাটি দিয়ে থাকি । ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক বিঘা জমিতে সাত ফিট গর্ত করে  মাটি কেটে ইট ভাটায় সরবরাহ করা হয়। ’
 
উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, কৃষি জমি থেকে স্কেবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে গর্ত করার কারণে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। মাটির উর্বর শক্তি কমে যাওয়ার কারণে এই জমিতে আর তেমন ফলন হয় না। এক পর্যায়ে এই জমিগুলোতে ফসল কম হওয়ার কারণে চাষিদেরও আগ্রহ কমে যায়।  এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে না পারলে আগামীতে উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ