সুবর্ণচরে গণধর্ষণের মূলহোতাসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ২২:২৫

বহুল আলোচিত সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ১৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। বুধবার বিকালে জেলার সংশ্লিষ্ট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ডিবির ওসি আবুল খায়ের জানান, গ্রেফতারকৃত মূলহোতা রুহুল আমিনসহ গ্রেপ্তারকৃত ১১জন ও ঘটনায়  সাথে জড়িত আরো ৫জনসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১১জন কারাগারে এবং অপরা পলাতক।

যেসব আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হলো তারা হলেন মোঃ সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, ইব্রাহিম খলিল বেচু, বাদশা আলম বাসু, আবুল হোসেন, মোশারফ হোসেন, সালা উদ্দিন, রুহুল আমিন, হাসান আলী ভুলু, জসিম উদ্দিন, হাসান ওরপে হেন্জু মাঝিও মুরাদসহ আরো দুইজন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ৩০ ডিসেন্বর দিবাগত রাতে জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নে গণধর্ষণের শিকার হন চার সন্তানের জননী এক নারী। এ ঘটনায় পরদিন ৩১ ডিসেম্বর ধর্ষিতার স্বামী নয়জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা ডিবি পুলিশের কাছে এ মামলা হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে এ মামলার ৭ আসামি ও পরে ঘটনার হুকুমদাতা রুহুল আমিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা জেলার সিনিয়র জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এমনকি ওই গণধর্ষিতা নারীরও জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত। 

এদিকে  আইনজীবীর মাধ্যমে তথ্য গোপন করে গত ১৮ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েও কারাগার থেকে বের হতে পারেনি দেশব্যাপী আলোচিত সুবর্ণচরে গণধর্ষণের মূলহোতা মোঃ রুহুল আমিন। তথ্য গোপনের বিষয়টি নজরে আসায় পর শনিবার একই আদালতের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ রুহুল আমিনের এক বছরের অন্তবর্তীকালীন জামিন বাতিল করে দেন।

এরআগে নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রুহুল আমিনের জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে ৪ মার্চ আদালত তা খারিজ করে দেন । নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ তার আদেশে বলেন, রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায় এটা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা।

৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হন। জামিন প্রার্থী আসামি রুহুল আমিনের হুকুমে ও নির্দেশে অপরাপর আসামিরা অভিযোগকৃত গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায় মর্মে ভিকটিম নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় জামিন নামঞ্জুর করা হলো। জেলা জজের এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন রুহুল আমিনের আইনজীবী।

ইত্তেফাক/আরকেজি