ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাংবাদিক সম্মেলন

জমি দখলের উদ্দেশ্যে নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলা হয়েছে

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০১:০৩

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, জমি দখলের উদ্দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ব্যবহার করে হিন্দুদের উপর হামলা হয়েছে। রামুর মতো নাসিরনগরেও ঘটনার নেপথ্যে থাকা দোষীদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এটা প্রশাসনের দুর্বলতা। অজ্ঞাতনামা যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা রামুর ঘটনার মতো অচিরেই জামিনে বেরিয়ে যাবে। এজন্য খুব দ্রুত সাম্প্রদায়িক নির্যাতন ও সন্ত্রাসের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির জন্য ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নসহ জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং পৃথক সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান তিনি। গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

 
সম্প্রতি ফেসবুকে ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুদের শতাধিক ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এছাড়া, ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে। এ দুই ঘটনায় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
 
এ প্রতিবেদনে নাসিরনগরের এমপি মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপির বিরোধের বিষয়ও তুলে ধরে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি-জামায়াত, হেফাজত ও মৌলবাদী গোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়ি-ঘর ভাংচুরসহ লুটপাটের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
 
এ সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি শামসুল হুদা, মানবাধিকার কর্মী অ্যারোমা দত্ত ও ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী।
 
সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলা হলে সেটা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। এ জন্য পৃথক আইন দরকার।
 
অ্যারোমা দত্ত বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলায় প্রথম সারিতে থাকে। আজকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল ক্ষমতায়; তাও এ ধরনের ঘটনা  তারা ঘটাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএন