পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত বানারীপাড়া পৌর দ্বিতল ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পূর্বেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার এই ভবন নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে একটি বিশেষ মহল। এ ব্যাপারে তদন্ত হলেও ছয় মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন পায়নি কর্তৃপক্ষ। ভবন নির্মাণের দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভবনটি প্রয়োজনের চেয়ে কম এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভবনের দরজা, জানালা, গ্রীল, ইলেক্ট্রিক্যাল সরঞ্জাম, স্যানিটেরিসহ অন্যান্য কাজ নিম্নমানের হয়েছে এই অভিযোগও রয়েছে।
ভবনে মেয়র, কাউন্সিলরসহ কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে অফিসের কাজ করছেন। বানারীপাড়া পৌরসভার ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল কালাম আজাদ এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন সরেজমিনে তদন্ত করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোদাচ্ছের আলী মল্লিকের লাইসেন্সে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সহিদুল ইসলাম ভবনটি নির্মাণ করেন।
২০১০-১১ অর্থ বছরে এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। ভবনের নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়। নির্মাণ কাজ নিম্নমানের হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ ছয় লাখ ২৫ হাজার টাকা বিলসহ জামানতের ১৬ লাখ টাকা আটকে রাখে।
সম্প্রতি এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বানারীপাড়া পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় পৌরসভার কার্য সহকারী মোঃ নয়ন খান নিষেধ করলে ঠিকাদার তার উপর চড়াও হয়।
এ বিষয় ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পৌর ভবনের মূল নকশায় ভুল ছিল। যে কারণে নীচে গ্রেড বিম না দেওয়ায় ইটের গাথুনিতে ফাটল ধরেছে। এদিকে ছয় মাস হলেও তদন্ত কর্মকর্তারা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন পৌর কর্তৃপক্ষকে দেননি। তবে শিগগিরই দিবে বলে পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফিফা বেগম জানান।
ইত্তেফাক/এএন
