বিএনপি পুনর্গঠনে নতুন মাত্রা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:৪১
 
নানা প্রতিবন্ধকতা-প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা আনা হয়েছে। এ অবধি ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ২২টি জেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে বাদবাকি কমিটিগুলো ঘোষণা করার চেষ্টা চলছে। মূলত স্থানীয় সরকারি প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় জেলায় জেলায় সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেও পিছিয়ে যাচ্ছে দলটি। সেই সঙ্গে আছে দলের প্রভাবশালী নেতারা। যারা জেলার কাউন্সিল করার ক্ষেত্রে অচলায়তন তৈরি করে রেখেছেন। এইসব নেতা চাচ্ছেন আধিপত্য ধরে রাখতে।
 
এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প পথে অগ্রসর হচ্ছেন বিএনপি হাইকমান্ড। যেখানে ঘটা করে সম্মেলন করা যাচ্ছে না সেসব জেলায় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা যাচ্ছেন। ছোট আকারে প্রতিনিধি সভা হচ্ছে। এই সভায় স্থানীয় দলীয় প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। অতপর সেই মতামতের প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা এধরনের প্রতিনিধি সভা করে অন্তত ১০টি জেলার প্রতিবেদন দিয়েছেন বেগম জিয়ার কাছে। বেগম জিয়া সবদিক বিবেচনা করে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করবেন। ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি জেলা কমিটি ঢাকা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।
 
দলের দায়িত্বশীল একজন সিনিয়র নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকায় ২২ ডিসেম্বরের পর অধিকাংশ জেলা কমিটি পরপর ঘোষণা করা হবে। কয়েকটি জেলার কমিটি চূড়ান্ত করা আছে।
 
দল পুনর্গঠনে দায়িত্বশীল নেতাদের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, পরপর কয়েকটি জেলায় খুব উত্সবমুখর পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর সরকার এখন আর কোনো জেলায় সম্মেলনের অনুমতি দিচ্ছে না। ময়মনসিংহে আমাদের সভা করতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাতিল করে প্রশাসন। এছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের নামে মামলা গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায়ও সমস্যা হচ্ছে। এই অবস্থায় ম্যাডাম যাদের দায়িত্ব দিচ্ছেন তারা জেলায় জেলায় গিয়ে প্রতিনিধি সভা করে তাদের মতামত নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, এই ডিসেম্বরের মধ্যে সব জেলায় কমিটি ঘোষণা করার টার্গেট রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের পর দ্রুত কমিটি ঘোষণা শেষ হবে।
 
জানা গেছে, বিভিন্ন জেলায় দলের সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে এসব টিম জেলাগুলোয় সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, ঢাকা জেলা, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম মহানগর, সিলেট জেলা, সিলেট মহানগর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর জেলা, রংপুর মহানগর, মেহেরপুর, মাগুরা, সৈয়দপুর, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় কোনোটির পূর্ণাঙ্গ কোনোটির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ ২২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ সম্মেলনের পর ৩৪ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্র থেকে। আংশিক কমিটিগুলোর বেশ কয়েকটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আহ্বায়ক কমিটিগুলোর যারা সম্মেলন করতে পারেননি সেখানে কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দেওয়া হবে নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নোয়াখালী, ময়মনসিংহ মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, পিরোজপুর, জামালপুর, কুষ্টিয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মাগুরা, নওগাঁ, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা উত্তর, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগরী, শেরপুর, ঝালকাঠি, বান্দরবান, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, লক্ষ্মীপুর প্রভৃতি জেলায় প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে কমিটি ঘোষণা দেওয়া হবে। দলের একজন সিনিয়র নেতা জানান, বর্তমানে সরকারের ‘নির্যাতন’ উপেক্ষা করে অনেকটা নীরবেই হচ্ছে দলের পুনর্গঠন।