গাইবান্ধা চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক সাধারণ সভায় মঙ্গলবার সকালে দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বের জের ধরে কথাকাটি ও চেয়ার ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে বিকালে পরিবহন কাউন্টার ও এক সদস্যের ভাইয়ের ব্যক্তিগত অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও মারপিট করে। এতে কমপক্ষে ৭জন আহত হয়। পরে এর প্রতিবাদে আজ সন্ধ্যায় জেলা শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে শহরের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার পর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ।
গাইবান্ধা চেম্বার অব কর্মাস ও গাইবান্ধা বাস এবং ট্রাক মালিক সমিতি পৃথকভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বলে জানান চেম্বারের সভাপতি শাহাজাদা আনোয়ারুল কাদির, বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোকবুল হোসেন মুকুল মিয়া এবং ট্রাক মালিক সমিতির সমিতির রোস্তম আলী।
আহতরা হলেন- চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মোক্তাদুর রহমান মিটু, মিটুর ছোট ভাই বাবুল মিয়া, শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার সুমন মিয়া, চেম্বারের সদস্য শহিদুল ইসলাম শান্তর ছোট ভাই রায়হান মিয়া ও শফিকুল ইসলাম, শাহীন মিয়া।
এদের মধ্যে রায়হান ও সুমনের অবস্থা আশস্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকীদের গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চেম্বার অব কর্মাসের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল কাদির ফুল জানান, মঙ্গলবার সকালে চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কার্যালয়ে বার্ষিক সাধারণ সভায় রিপোর্ট পাঠের সময় চেম্বারের বিগত কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের মোরছালিন পারভেজের কিছু দুর্নীতির চিত্র চলে আসলে সভায় হৈচৈ শুরু হয়। একপর্যায়ে বর্তমান সভাপতি কাদির ও সাবেক সভাপতি পারভেজ গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এসময় সদস্যরা বেশ কিছু চেয়ার ভাংচুর করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সভার বাকী কাজ সুষ্ঠভাবে শেষ হয়।
তিনি আরো জানান, এর জের ধরে চেম্বারের পরিচালক (পারভেজ গ্রুপের) খান মো. জসিমসহ কিছু লোকজন শহরের এক নম্বর ট্রাফিক মোড়ে চেম্বারের অপর পরিচালক (কাদির গ্রুপের) মোক্তাদুর রহমান মিটুর শ্যামলী কাউন্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় বাধা দিতে গেলে তারা মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে। এতে পরিচালক মোক্তাদুর রহমান মিটু, মিটুর ছোট ভাই বাবুল মিয়া, শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার সুমন মিয়া আহত। এরপর তারা শহরের হকার্স মাকের্টে চেম্বারের সদস্য শান্তর বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য পিয়ারুল ইসলামের অফিসে হামলা করলে দুই পক্ষে সংর্ঘষে শান্তর ছোট ভাই রায়হান মিয়া ও শফিকুল ইসলাম এবং শাহীন মিয়া নামে অপর একজন আহত হয়।
এঘটনার প্রতিবাদে গাইবান্ধা চেম্বার অব কর্মাস এবং গাইবান্ধা বাস মালিক সমিতি পৃথকভাবে জেলা শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।
তবে চেম্বার সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের মোরছালিন পারভেজ জানান, মঙ্গলবার সকালে চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কার্যালয়ে সাধারণ সভা চলাকালীন সাধারণ সদস্য মতামত ব্যক্ত করতে চাইলে চেম্বারের সভাপতি শাহাজাদা আনোয়ারুল কাদির বাধা দেন। আনোয়ারুল কাদিরের এই ভূমিকা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে কথাকাটাকাটি এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে দুপুরের পর চেম্বারের সভাপতি কাদির ও পরিচালক শান্তর বেশ কিছু ভাড়াটিয়া লোকজন চেম্বারের পরিচালক খান মো. জসিমের মহুরী পাড়ার বাসায় পাঠানোয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি একেএম মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
ইত্তেফাক/এমআই
