জি-কে প্রকল্পের বেহাল দশা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ০১:১৫

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা কপোতাক্ষ প্রকল্পের বেহাল দশা চলছে।  এককালের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এ প্রকল্প এখন নিষ্প্রাণ। লোকবলের অভাবে প্রকল্পের  প্রায়  তিন  হাজার কোটি টাকার সম্পদ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে বহু সম্পদ লুট হয়ে গেছে। দেখার কেউ নেই। এককালের স্বেতহস্তি এখন মরা শিয়ালে পরিণত হয়েছে।

 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা যায়, পানি সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশনসহ বহুমুখী লক্ষ্য নিয়ে ১৯৫৪ সালে দেশের এ বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু করে ওয়াপদা। শুরুতে এত জৌলুস ছিল যে,  তত্কালীন ওয়াপদা স্বেতহস্তি বলে পরিচিত ছিল। অফিসারদের জন্য  আনা হয় নতুন নতুন গাড়ি, গ্রাম এলাকার অফিস বাসাবাড়িতে ছিল নিজস্ব জেনারেটরে তৈরি বিদ্যুতের ব্যবস্থা। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলায় এ প্রকল্প বিস্তৃত। প্রকল্প এলাকায় মোট জমির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৮৮ হাজার একর। এরমধ্যে সেচযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল সাড়ে ৩ লাখ একর। এ দীর্ঘ সময়ে জি-কে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সেচযোগ্য পুরা জমিতে সেচ দিতে পারেনি। এখন  অব্যবস্থাপনার কারণে সেচ এলাকা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ১৯৬৯-৭০ সালে প্রথম পর্যায় এবং ১৯৮২-৮৩ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মোট ব্যয় হয়েছিল ৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।  প্রকল্প এলাকায়  এক’শ ৯৩ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল,  ৪’শ ৬৭ কিলোমিটার শাখা খাল, ৮’শ ৯৫ কিলোমাির উপ-শাখা খাল ও  ৯’শ ৭১ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল খনন করা হয়।
 
খালগুলোর উপর দু’ হাজার এক’শ ৮৪টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো, খালের পাড়ের উপর দিয়ে  পাকা রাস্তা, অফিস ভবন, কর্মকর্তাদের বাসাবাড়ি, বাংলো মিলিয়ে এক বিশাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়।  ভেড়ামারাতে পদ্মা পাড়ে স্থাপন করা  হয় পাম্প হাউজ। সেখানে স্থাপন করা হয় তিনটি প্রধান ও ১২টি সাবসিডিয়ারি পাম্প।  পাম্প হাউজের প্রতি সেকেন্ডে পানি উত্তোলন ক্ষমতা ছিল ৫ হাজার ৪’শ কিউসেক। ১৯৬৩ সালে ১৭ হাজার ২৬৭ একরে সেচ দানের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়।
 
 ১৯৮৪ সালে প্রকল্পের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়। এক’শ ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯৯৪ সালে পুনর্বাসন কাজ শেষ হয়। পুনর্বাসন কাজের মধ্যে ছিল সেচ খাল, পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো ও রাস্তা সংস্কার। ভেড়ামারা পাম্প হাউজের ওভার হোলিং ও অফিস বাসার সংস্কার। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের নিজস্ব টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। স্থাপনের এক বছর যেতে না যেতেই ভেঙ্গে পড়ে টেলিযোগাযোগ। তার চিহ্ন এখন নেই। ’৯৪ সালের পর প্রকল্প গুটানো শুরু হয়।
 
 সদ্য বদলি হওয়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী (বর্তমানে খুলনার প্রধান প্রকৌশলী) বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জি কে প্রকল্পের প্রধান সমস্যা হচ্ছে লোকবলের অভাব। এ ছাড়াও অর্থের অভাব রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএন