মুরাদনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা সংকট ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ০১:১৭

পাকা ভবন নির্মিত না হওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, শিক্ষক, টয়লেট ও পানি সংকট এবং নোংরা পরিবেশসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। যা দেখার যেন কেউ নেই। এর মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটই হচ্ছে স্কুলগুলোর প্রধান সমস্যা। অন্যদিকে দুই যুগেও অনেক বিদ্যালয় জাতীয়করণ  না হওয়া ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটও অন্যতম। বিশেষ করে শিক্ষক ও শ্রেণি কক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এ উপজেলায় শিক্ষার হার দিন দিন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 
জানা যায়, উপজেলা শিক্ষা অফিসে ৩ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলার ২০৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় শতাধিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই নাজুক। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও ১০৫টি বিদ্যালয়ে ১৩৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদশূন্য। ১০০টি স্কুলে নেই বিদ্যুত্ সংযোগ। এর মধ্যে আবার প্রায় শতাধিক স্কুল ভবন ঝূঁকিপূর্ণ। শিক্ষা অফিস মতে, ২০টি বিদ্যালয় অধিক ঝুকিঁপূর্ণ। বিদ্যালয়গুলো হলো, নবসিংহপুর, গাজীপুর দক্ষিণ, রামপুর, কৃষ্ণপুর, ঘোড়াশাল উত্তর, রামপুর উত্তর, কুরুন্ডি, নোয়াগাঁও, রোয়াচালা, মাধবপুর, সোনাপুর, কুড়ারপাড়, সোনারামপুর, কাজিয়াতল, লক্ষ্মীপুর ও খাপুড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়।
 
অভিভাবকরা জানান, বিভিন্ন স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকা ও স্কুলগুলো বিভিন্ন সমস্যার জন্য দেশের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় আমরা পিছিয়ে রয়েছি। ফলে এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএনএম মাহবুব আলম সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, মৃত্যু, অবসরজনিত ও অনেক দিন থেকে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শূন্য পদ সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে ও  নতুন ভবনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানান হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই সমস্য আর থাকবে না। আশা করি দ্রুত এই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

ইত্তেফাক/এএন