সাতক্ষীরায় অপহরণের ৫ দিন পর কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৫:০৯
 
দশ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য অপহৃত সাতক্ষীরার কলেজ ছাত্র গৌতম সরকারের (১৯) গলিত লাশ পাঁচ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে সদর উপজেলার মহাদেবনগর গ্রামের একটি পুকুর থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
 
নিহত গৌতম সরকার মহাদেবনগর গ্রামের ইউপি সদস্য গণেশ সরকারের ছেলে ও সীমান্ত আদর্শ কলেজের ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
 
এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা অপহরণকারী নুর ইসলাম ও রেজাউল শেখের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 
পুলিশ জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা গৌতম সরকারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। এরপর তার মোবাইল থেকে গৌতমের বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
 
নিহতের বাবা গণেশ মণ্ডল জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গৌতম ও তার বন্ধুরা বাড়ির পাশে মহাদেবনগর মোড়ে আমিন মিস্ত্রির দোকানে বসে টিভিতে ফুটবল খেলা দেখছিলেন। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। এরপর থেকে গৌতমের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 
 
IMG0
 
তিনি জানান, রাতে তার নাম্বারে ছেলে গৌতমের নাম্বার থেকে ফোন করে জানানো হয় ছেলেকে পেতে চাইলে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। এরপর তিনি অপহরণকারীদের কথা মতো টাকা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে রেখেও ছেলেকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। এ ব্যাপারে পরদিন বুধবার তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি করেন।
 
নিহতের বাবা আরো জানান, জামসেদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে একটি সালিশ নিয়ে তার বিরোধ চলছিল। জামসেদ তার সহযোগীদের নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
 
এদিকে আটককৃৃত ভাড়–খালি গ্রামের নাজমুল হাসানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গৌতমের লাশ তার বাড়ির ধারের একটি পুকুর থেকে গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় নাজমুল হাসানসহ ছয় জনকে আটক করেছে। 
 
আটককৃতরা হলেন- নুর ইসলাম, রেজাউল শেখ, আলিম, শাওন ও মনিরুল ইসলাম।
 
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, গৌতমের বাবা ইউপি সদস্য গনেশ সরকারের সঙ্গে গ্রামের এক ব্যক্তির বিরোধ চলে আসছিল। তারই জেরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। 
 
তিনি আরো জানান, এ ঘটনার সঙ্গে আরো যারা জড়িত তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
 
 
ইত্তেফাক/কেকে