ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে প্রভাবশালী মহল নদীর বুক ও তীর দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশত ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এসব অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নদীর তীর ও বুকে অবৈধ ইটভাটা গড়ে ওঠায় নদীর অস্তিত্ব ও নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে সরকার প্রতিবছর বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নদীর গতিপথ বন্ধ ও নাব্যতা সংকটের ফলে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার উত্তরে বংশাই নদী এবং দক্ষিণে লৌহজং নদীতে এসব অবৈধ দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। বৃহস্পতিবার এই দুই নদীর আশেপাশে এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে প্রভাবশালী মহল ভ্যেকু, ট্রাক ও ট্রলার দিয়ে মাটি ফেলে নদী দখল করে ইটভাটা স্থাপনের কাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর শাখা নদী মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদী। এই নদী দুটি নাব্যতা হারিয়ে এখন মরা খালে পরিণত হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে বংশাই নদীর গোড়াইল, কোদালিয়া, গোড়াই, সৈয়দপুর, হাটুভাঙ্গা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার বালি এবং মাটি ফেলে নদী ও জমি দখল করে নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার করে নদী দখল করে যাচ্ছে বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছে।
চলতি বছর ওই এলাকায় নদী দখলের প্রতিযোগিতা আরো বেড়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে— স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উেকাচের বিনিময়ে ম্যানেজ করে এই নদী দখল করে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী দখলের ফলে একসময়ের বড় নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। একই অবস্থা লৌহজং নদীর আশেপাশেও।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম আহমেদ বলেন, নদ-নদী এদেশের জাতীয় সম্পদ। যারা নদী ও তার আশপাশ দখল করে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ভাটা মালিকদের জরিমানা ও ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের এ অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএন
