কুয়াকাটায় জবি সঙ্গীত বিভাগের আনন্দভ্রমন

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:৩০
 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ তাদের ৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষাভ্রমনে এবছর বেছে নিলো কুয়াকাটার দৃষ্টিনন্দন সমূদ্রসৈকত। খুব বেশিদিন হয়নি সঙ্গীত বিভাগের কার্যক্রমের।
এরই ভেতরে এবারই প্রথমবার এমন শিক্ষসফরের আয়োজন করে এই বিভাগ। প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে লঞ্চযোগে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। শিক্ষা ভ্রমনে ছাত্রছাত্রীদের সাথে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও তাদের পরিবার। শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অণিমা রায়ের নেতৃত্বে অন্যান্যরা ছিলেন সহকারী অধ্যাপক রেদওয়ান আলী লাভলু, প্রভাষক মাহমুদুল হাসান, সুবীর ঘোষ, অফিস সহকারী মনি রানী সরকার, প্রদীপ দাস ও সোহাগ।
 
IMG0
 
১৮ ডিসেম্বর সকালে কুয়াকাটা গেস্ট হাউসে পৌঁছে সমূদ্রসৈকত ভ্রমন থেকে শুরু করে কুয়াকাটার নৈসর্গিক প্রকৃতির সাথে নিজেদের আপন করে নেন ৪৭ জন ছাত্রছাত্রী। সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী বলেই রাতের নৈশভোজ শেষে খোলা আকাশের সী-বীচের বারবিকিউ আর আধখানা চাঁদের সাথে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। সে সন্ধ্যায় শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের আত্মিক সংযোগের দৃঢ়তা আর নিজেদের সৃজনশীলতাকে প্রকাশের এক অনন্য সুযোগও মেলে। এমন আনন্দ ভ্রমনে প্রকৃতির সাথে শীত ঋতুকে উপভোগ প্রসঙ্গে সঙ্গীত বিভাগের ছাত্র ইমন বলেন, ‘আমার বাড়ি ভান্ডারিয়ায়, পরিবারের সাথে তাই এর আগেও এখানে এসেছি একাধিকবার। কিন্তু নিজের বিদ্যাপীঠে সহপাঠি আর শিক্ষকদের সাথে এই শিক্ষাভ্রমন আমার জীবনের অনন্য সেরা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। নিজের ডিপার্টমেন্টের ছাত্র হয়ে তাই আমি গর্বিত স্মরেই বলতে চাই যে আমি ভাগ্যবান আমি এই বিভাগের ছাত্র।’
 
IMG1
ভ্রমনের দ্বিতীয় দিনে প্রাত্যাহিত দিবসের আলো আকাশের দরজাখুলে প্রবেশের আগেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের পুরো দল এক ডজন ভ্যানে চড়ে গেস্ট হাউজ থেকে সুদূর বীচের নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দেখতে যান সুর্যোদয়। মূলত কুয়াকাটা সমুদ্য সৈকতের এই সূর্যোদয় দেখার বিষয়টিই এলাকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। মেঠোপথে যান্ত্রিক শব্দহীন ভ্যানচালিত আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে সুর্যোদয় দেখে দুপুরে বীচ ভ্রমন শেষে সৈকতের নিজেদের স্মৃতিবন্দী করে রাখে সকলে। ক্লাশ রুটিনের বাইরে নিয়মহীন, নির্মল আনন্দ কুড়োতে শিক্ষক আর সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের এই আনন্দ ভ্রমনের সফল এক স্মৃতি বন্দি করলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ। 
আনন্দ ভ্রমন প্রসঙ্গে সঙ্গীত বিভাগের চেয়ারম্যান অণিমা রায় বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমার ছাত্র-ছাত্রীদের ভেতরে এমন একটা প্রকৃতি প্রেম নিয়ে আসা। কারণ যান্ত্রিক শহরে সকলেই আমাদের ক্যাম্পাসে ক্লাস শেষে হয়তো নিজেদের ভেতরে আড্ডাবাজি আর ফেসবুকেই ডুবে থাকে। নিশ্চল বা বাড়তি শব্দহীন এলাকায় তাই আমরা যখন খানিক আলোয় গান বা আড্ডায় জড়ো হলাম তা স্মৃতিতাড়িত হবে সারাবছর। কিংবা ফেরার দিন বাসে আমার সকল ছাত্র-ছাত্রীরা সমস্বরে রবীন্দ্র-নজরুলের গানসহ একাধিক গানের পসরা সাজালো তখন সত্যিকার অর্থেই এরকম ভ্রমনের এক স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগটির বয়স হয়তো বেশিদিনের নয়। কিন্তু আমি বলবো সবচেয়ে প্রানচ্ছোল বিভাগ হলো সঙ্গীত বিভাগ। তবে কুয়াকাটায় আমাদের এই শিক্ষাভ্রমনটি তাই আমাদের একটি ধারাবাহিকতার অংশ। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাবো আমাদের ভাইস চ্যান্সেলর সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভাগকে। আমাদের এই উদ্যোগকে সফল করতে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করার জন্য।