রাজধানীর গোপীবাগে পীর লুেফার রহমান ফারুকী ও তার ছেলেসহ ছয়জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চার্জশিট দেওয়া হয়নি তিন বছরেও। এঘটনায় মামলা তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একজনের স্বীকারোক্তি মতে এখনো অধরা রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ছয় সদস্য। তদন্তকারীদের ভাষ্য, অধরা ছয় জেএমবির গ্রেফতারের অপেক্ষায় আটকে আছে মামলার চার্জশিট।
তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পূর্ব বিভাগের পরিদর্শক কাজী গোলাম কবীর বলেন, এই মামলায় তরিকুল ইসলাম ও আবদুল গাফফার নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তরিকুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তরিকুলের জবানবন্দি অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে আটজন অংশ নেয়। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদের গ্রেফতার করতে পারলেই এই মামলায় চার্জশিট দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নিহত লুেফার রহমানের বাসায় আসামিদের যাওয়া-আসা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর গোপীবাগের আর কে মিশন রোডে ৬৪/৬ নম্বর ‘আয়না বাড়ির’ দোতলায় কথিত ইমাম মাহাদীর প্রধান সেনাপতি পরিচয়দানকারী লুেফার রহমান ফারুক (৬০), তার ছেলে মনির হোসেন (৩০), মুরিদ সাইদুর রহমান (৩০), মজিবর রহমান (৩২), রাসেল (৩০) ও বাসার তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জুকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ওয়ারী থানায় অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন লুেফার রহমানের ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক। ওই দিনই থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেয় ডিবি।
